ফিডের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রোধ, ফিড তৈরির কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক-কর কমানো এবং ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারিদের টিকিয়ে রাখতে কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে ময়মনসিংহের ত্রিশালে মানববন্ধন করেছেন পোল্ট্রি খামারি ও ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ‘ত্রিশালের সর্বস্তরের প্রান্তিক খামারিবৃন্দ’-এর ব্যানারে ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন শাহজালাল হোটেলের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রান্তিক পোল্ট্রি খামারি ও ব্যবসায়ী অংশ নেন।
ানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পোল্ট্রি খাতের উৎপাদন ব্যয়ের বড় একটি অংশই ফিডে চলে যায়। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে ফিডের দাম দফায় দফায় বাড়ায় খামারিদের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। এর বিপরীতে ডিম ও মুরগির বাজারদর সবসময় উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় অনেক খামারি লোকসানের মুখে পড়ছেন।
সূত্র জানায়, ফিডসহ উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও উৎপাদক পর্যায়ে ডিম ও মুরগির দামের সঙ্গে ভোক্তা পর্যায়ের দামের বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে। এতে খামারিরা বাড়তি উৎপাদন ব্যয়ের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এদিকে চলতি সেপ্টেম্বরেই পোল্ট্রি ও ফিশ ফিড শিল্পসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা ফিডের অন্যতম কাঁচামাল ভুট্টা, গম, সয়াবিন খৈল, রাইস পলিশ, ওষুধ, ভিটামিন ও ভ্যাকসিনের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
২০২৬ সালের মে মাসে প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের খামারিরা ফিডের বাড়তি দামের কারণে উৎপাদন ব্যয় সামলাতে পারছেন না। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, পোল্ট্রি উৎপাদন ব্যয়ের প্রায় ৮০-৮৫ শতাংশ পর্যন্ত ফিডের পেছনে চলে যেতে পারে এবং গত কয়েক বছরে ফিডের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, ফিডের দাম কমানো না হলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারিরা ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হবেন। এতে শুধু খামারিরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না, কর্মসংস্থান ও দেশের প্রাণিজ আমিষের সরবরাহেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই পোল্ট্রি খাতকে সুরক্ষায় ফিডের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক-কর কমানো, বাজারে ফিডের মূল্য যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা এবং খামারিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও অন্যান্য সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
বক্তারা বলেন, পোল্ট্রি খাতের সংকটের প্রভাব শুধু খামারিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ফিডের দাম বাড়লে উৎপাদন ব্যয় বাড়ে এবং এর প্রভাব পরবর্তী সময়ে ডিম, মুরগি ও অন্যান্য প্রাণিজ খাদ্যের বাজারেও পড়তে পারে। ফলে খামারি ও ভোক্তা-উভয় পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে ফিডের বাজার স্থিতিশীল করা জরুরি। মানববন্ধনে ফয়সাল আহমেদ সাগর, নজরুল ইসলাম, ফয়জুর রহমান, মনিরুজ্জামান, আব্দুস সামাদ, আকরাম হোসেন, রাশেদ, আবু সাঈদ, আব্দুল করিম, হেলাল উদ্দিন, তুহিনসহ অনেকে বক্তব্য দেন। মানববন্ধন থেকে বক্তারা দ্রুত ফিডের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি বন্ধ, কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক-কর কমানো এবং প্রান্তিক খামারিদের সুরক্ষায় কার্যকর সরকারি উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান।