তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠীর জন্য ভিক্ষাবৃত্তির পরিবর্তে দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ন্যায় অধিকার তৃতীয় লিঙ্গ উন্নয়ন সংস্থা। একই সঙ্গে জনসাধারণের ভোগান্তি বিবেচনায় রংপুর নগরীর মডার্ন মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় বাসে সাহায্য সংগ্রহের কার্যক্রম বন্ধ ও কমিয়ে আনার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় নগরীর মডার্ন মোড় অর্জুন চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংগঠনের সভাপতি মোছাঃ আনোয়ারা ইসলাম রানী। ‘তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠীর অধিকার, মর্যাদা ও সম্মানজনক জীবনের জন্য’ শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। লিখিত বক্তব্যে আনোয়ারা ইসলাম রানী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রংপুর মডার্ন মোড়সহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠীর কিছু মানুষ বাস ও বিভিন্ন স্থানে সাহায্য সংগ্রহের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। তবে সাহায্য সংগ্রহের নামে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি, আপত্তিকর আচরণ এবং চাঁদাবাজির মতো ঘটনার অভিযোগ সংগঠনের কাছে এসেছে।
তিনি বলেন, জনগণের ভোগান্তিকে তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে তারা মনে করেন না। জনসাধারণের দুর্ভোগ বিবেচনায় সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত সাত মাস ধরে রংপুর মডার্ন মোড় এলাকায় বাসে সাহায্য সংগ্রহের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। নগরীর অন্যান্য স্থানেও এ ধরনের কার্যক্রম কমিয়ে আনা হয়েছে।
সংগঠনের সভাপতি বলেন, এই সিদ্ধান্ত কারও বিরুদ্ধে নয়। জনগণের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠীর জন্য সম্মানজনক ও টেকসই ভবিষ্যৎ তৈরির প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিজের বিরুদ্ধে সংগঠনের কিছু সদস্যের করা অভিযোগ প্রসঙ্গে আনোয়ারা ইসলাম রানী বলেন, তাকে নিয়ে বিভিন্ন বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও অসত্য অভিযোগ তুলে ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, কারও অভিযোগ থাকলে তার পক্ষে যথাযথ প্রমাণ ও সাক্ষ্য উপস্থাপন করতে হবে। অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্ট আইনগত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে কোনো বেআইনি কাজের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ায় তার আপত্তি নেই। তবে মিথ্যা অভিযোগ ও অপপ্রচার মেনে নেওয়া হবে না। সংবাদ সম্মেলনে তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন সংগঠনের সভাপতি। তিনি জানান, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালকের সঙ্গে এ বিষয়ে তার কথা হয়েছে। তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠীর মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার বিষয়ে আশ্বাস পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।
আনোয়ারা ইসলাম রানী বলেন, তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠীর জীবনমান পরিবর্তন করতে হলে তাদের হাতে ভিক্ষার ঝুলি নয়, কাজের সুযোগ তুলে দিতে হবে। শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠীর অধিকার মানে তাদের আজীবন ভিক্ষাবৃত্তির মধ্যে আটকে রাখা নয়। শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা এবং সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার সুযোগ নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, জনসাধারণকে হয়রানি করে, বাসে চাপ সৃষ্টি করে কিংবা জোরপূর্বক অর্থ সংগ্রহের মাধ্যমে তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। একই সঙ্গে জনগণের অধিকার ও তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠীর অধিকার, উভয়ই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠীকে ভিক্ষাবৃত্তির পরিবর্তে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদপ্তর, গণমাধ্যম ও সচেতন নাগরিকদের সহযোগিতা কামনা করা হয়। আনোয়ারা ইসলাম রানী বলেন, “ভিক্ষাবৃত্তি নয়, কর্মসংস্থান চাই; অপমান নয়, মর্যাদা চাই; নির্ভরশীলতা নয়, আত্মনির্ভরশীলতা চাই।”