স্কুলেও পানি বাড়িতেও পানি লেখাপড়া করবো কী করে ?

এফএনএস (আমানুল হক আমান; বাঘা, রাজশাহী) : | প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০০ পিএম
স্কুলেও পানি বাড়িতেও পানি লেখাপড়া করবো কী করে ?

রাজশাহীর বাঘায় পদ্মার চরে পানি মাড়িয়ে স্কুলে যাচ্ছিল শিক্ষার্থীরা। এই দূর্ভোগ দেখে কর্তৃপক্ষ অনিদিষ্টকালের জন্য ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে ৮টি স্কুল।  উপজেলা শিক্ষা  কর্মকর্তা ৯ সেটেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চকরাজাপুর হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা বই হাতে নিয়ে পানির মধ্যে দিয়ে তাদের স্কুলে যেতে দেখা ৮টি স্কুল অনিদিষ্টকালের জন্য ছুটি ঘোষণা।

জানা গেছে, বাঘা উপজেলার পদ্মার মধ্যে চকরাজাপুর হাইস্কুল। এই স্কুলটি ১৯৭৮ সালে স্থাপিত হয়েছে। ভাঙনের কারনে ১৯৯৮ সালে, ২০১২ সালে ও ২০১৮ সালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে যে অবস্থানে আছে স্কুলটি যে কোন সময়ে পদ্মা গর্ভে বিলিন হয়ে যাবে। এরমধ্যে এক সপ্তাহ থেকে পদ্মার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হচ্ছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টায় পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ২৭ মিটার। বিপৎসীমা ১৮ দশমিক ০৫ মিটার। বর্তমানে  দশমিক ৭৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

তবে ২৪ ঘন্টায় ৩ মিটার পানি কমেছে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)’র গেজ রিডার এনামুল হক। এ বিষয়ে চকরাজাপুর হাইস্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী লাবন্য খাতুন, আকাশ হোসেন, সাগর আলী, আখি খাতুন, নবম শ্রেণিরশিলা খাতুন, নিয়তি খাতুন বলেন, এক সপ্তাহ থেকে পদ্মার পানি বাড়তে শুরু করেছে। দুইদিনে স্কুলের মাঠ ডুবে গেছে। ক্লাস না করলে সমস্যায় পড়তে হবে। তাই এই দূর্যোগের মধ্যেও স্কুলে যাচ্ছিলাম। দূর্যোগ দেখে স্যারেরা স্কুল ছুটি দিয়েছে। বর্তমানে পড়ালেখা বন্ধ হয়ে আছে। স্কুলেও পানি, বাড়িতেও পানি লেখাপড়া করবো কী করে ? লেখাপড়ার কোন পরিবেশ নেই।  

চকরাজাপুর হাইস্কুলের সহকারি প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বলেন, পদ্মার ভাঙনের মুখে আছে স্কুলটি। ভাঙন থেকে ৫ মিটার দূরে রয়েছে স্কুল। স্কুলের মাঠ ও চারটি টিনের ঘর পদ্মায় চলে গেছে। যে কোনো সময় পাকা ভবন পদ্মার গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিত অনেক কম। দুরের শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতে পারছিল না। কাছাকাছি কিছু ছেলে-মেয়ে ৯ সেপ্টেম্বর পযন্ত পানি মাড়িয়ে স্কুলে এসেছিল। কষ্ট করে ক্লাস নেওয়া হচ্ছিল। শিক্ষাথী ও শিক্ষকদেরও স্কুলে আসা দূরহ হয়ে পড়ে। এরমধ্যেও কেউ কেউ আসচিল স্কুলে। স্কুলে আসতে গিয়ে অনেকের জামাকাপড় ভিজে গেছে দেখিছি। তারা স্কুলে এসে ছুটি নিয়ে চলে গেছে। দূর্যোগ দেখে স্কুল ছটি দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে থাকার জায়গা নেই। পড়বে কী করে।তবে পানি কমতে শুরু করেছে, দুই/চার দিনের মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে যাবে আসা করছি।

প্রধান শিক্ষক আবদুস সাত্তার বলেন, এই স্কুলে মোট শিক্ষার্থী রয়েছে ৫৩৭ জন। শিক্ষক কর্মচারী রয়েছে ১৯ জন। পদ্মা নদী ভাঙতে ভাঙতে স্কুলের মাঠ পদ্মায় চলে গেছে। স্কুলের ৩ কক্ষবিশিষ্ট পাকা ভবন ও টিনের আরো ৪ কক্ষ ঘর পদ্মার ভাঙন থেকে ৫ মিটার দূরে অবস্থান করছে। এরমধ্যে পানি এসে স্কুল মাঠ ডুবে গেছে। প্রতিটি ক্লাস রুমে পানি উঠেছে। বিষয়টি প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে অবহিত করে ছুটি দেওয়া হয়েছে। এ দিকে পলাশি ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে আড়াই শতাধিক শিক্ষাথী রয়েছে। এ দিকে চৌমাদিয়া, আতারপাড়া, পশ্চিম চরকালিদাসখালী, ফতেপুর পলাশি, লক্ষীনগর, চরকালিদাসাখালীসহ ৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়া আসার কোন ব্যবস্থা না থাকায় বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ দিকে পলাশি, চকরাজাপুর এবং পূর্ব চকরাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় তিনটিতে বন্যা কবলিত না হওয়ায় পাঠদান কাক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মীর মামুনুর রহমান বলেন, পদ্মার চরে ৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৬টির ছুটির ঘোষণা করা হয়েছে। তিনটির বিদ্যালয়ে পাঠদান কাক্রম অব্যাহত রয়েছে। চকরাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুল আযম বলেন, ভাঙনে কারণে চকরাজাপুর, কালিদাসখালী, লক্ষ্ণীনগর মৌজার চিহ্ন হারিয়ে গেছে। বর্তমানে এগুলোর স্থান বলতে কিছু নেই। সম্পূর্ণটা নদীগর্ভে চলে গেছে। বর্তমানে স্কুলে পানি উঠায় স্কুল ছুটি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চরের শতাধিক বাড়িঘর ও শত শত বিঘা জমিতে রোপণ করা আমবাগান, কুলবাগান, পেয়ারাবাগান, শাকসবজিসহ বিভিন্ন ফসলি পদ্মার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে