টাঙ্গাইলে শিশুর উপর যৌননিগ্রহের দায়ে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন

এফএনএস (টাঙ্গাইল) : | প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম
টাঙ্গাইলে শিশুর উপর যৌননিগ্রহের দায়ে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন

টাঙ্গাইলে শিশুর উপর যৌননিগ্রহের দায়ে রশিদ মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক। মঙ্গলবার(১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দণ্ডিত আসামির উপস্থিতিতে ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. আব্দুল মজিদ ওই রায় দেন। এছাড়াও আসামিকে দুই লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডিত রশিদ মিয়া (৫৫) টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের আগছাওয়ালী গ্রামের গোলামের ছেলে। 

ট্রাইব্যুনালের বিচারক রায়ে উল্লেখ করেন, আসামির কাছ থেকে অর্থদণ্ড আদায় করা সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে আসামি যে সম্পদের মালিক হবেন সেই সম্পদ থেকে ভিকটিমকে দেওয়া হবে। ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর টাঙ্গাইলকে দণ্ডিত আসামি রশিদ মিয়ার স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে অর্থদণ্ডের সমপরিমান অর্থ ভিকটিমকে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। রায়ে ট্রাইব্যুনালের বিচারক আরো বলেন, যৌননিগ্রহের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুর বাবা আসামি রশিদ মিয়া, তাকে উত্তরাধিকার ঘোষণা করেন এবং শিশুর ভরনপোষণের ব্যয় রাষ্ট্র গ্রহণ করবে বলে প্রকাশ করেন। শিশুর শিক্ষা, চিকিৎসা ও ভরনপোষণ বাবদ মাসিক প্রদেয় অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ পূর্বক ট্রাইব্যুনালকে অবহিত করারও নির্দেশ দেন আদালত।  

টাঙ্গাইলের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পিপি খন্দকার মো. রোকুনুজ্জামান জানান, ২০২৪ সালে ১৪ এপ্রিল ১৪ বছরের এক শিশু তার দাদিকে ডাকার জন্য পুকুর পাড়ে যায়। এসময় প্রতিবেশি(সম্পর্কে দাদা) দণ্ডিত আসামি রশিদ মিয়া তাকে বলে শিশুটির দাদি তার বাড়িতে গেছে। পরে শিশুটিকে সাথে নিয়ে নিজ বাড়িতে যায় এবং জোর পূর্বক যৌননিগ্রহ চালায়। এ ঘটনা কাউকে জানালে শিশু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করবে বলে জানায়। পরে ভিকটিমের শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হলে শিশুটি তার মায়ের কাছে যৌননিগ্রহের কথা খুলে বলে। এ ঘটনায় শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর ভিকটিম তার বাবার বাড়িতে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়।

২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ভিকটিম বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। আদালত মির্জাপুর থানাকে মামলাটি এজহারের জন্য আদেশ দেন। পরে দণ্ডিত আসামি রশীদ মিয়ার ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টে ভিকটিমের কন্যা সন্তানের পিতা বলে নিশ্চিত হয়।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে