মণিরামপুরে যৌন হয়রানির দায়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে শিক্ষক

এফএনএস (জি. এম ফারুক আলম; মণিরামপুর, যশোর) : | প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:০৭ পিএম
মণিরামপুরে যৌন হয়রানির দায়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে শিক্ষক

যৌন হয়রানি ও অশ্লীল আচরনের দায়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে ইকরামুল হোসেন নামের এক শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। যশোরের মণিরামপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক অনেক দিন ধরেই শিক্ষার্থীদের সাথে যৌন হয়রানিসহ অশ্লীল আচরন করে আসছিলেন। মুখ খুললেই পরীক্ষায় ফেল করানোসহ নানা ভয়-ভীতি দেখানোর অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই শিক্ষকের ব্যবহৃত স্মার্ট ফোন ও ব্যক্তিগত কম্পিউটার জব্দ করেছে পুলিশ।

জানাযায়, এদিন সকালে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীসহ সাধারন শিক্ষার্থীরা শিক্ষক ইকরামুল হোসেনের শাস্তির দাবীতে প্রধান শিক্ষক একেএম তছির উদ্দীনের কক্ষের সামনে অবস্থান নেয়। প্রধান শিক্ষক অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তির আশ্বাস দিলেও শিক্ষার্থীদের শ্রেনিকক্ষে ফেরাতে ব্যর্থ হন। সময় গড়ানোর সাথে সাথে অভিভাবকসহ সাধারন মানুষ বিদ্যালয়ে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন। 

এক পর্যায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যেতে থাকে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সম্রাট হোসেন, এ্যাসিল্যান্ড মাহির দায়ান আমিন, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মফিজুর রহমান মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোজাফ্ফর হোসেন বিদ্যালয়ে যান। এ সময় ইউএনও মোঃ সম্রাট হোসেন ভুক্তভোগি শিক্ষার্থীদের অভিযোগ শুনেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা শিক্ষক ইকরামুল হোসেনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ ইউএনও’র কাছে দেয়। তিনি তাৎক্ষনিক মাধ্যমিক মাউশি’র (মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর) খুলনা বিভাগীয় পরিচালকসহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের সুপারিশ করেন।

বিদ্যালয়ে উপস্থিত অভিভাবকরা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে আটকের দাবীতে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এক পর্যায় পরিস্থিতি সামাল দিতে ওই শিক্ষককে আটক করে পুলিশ। প্রধান শিক্ষক একেএম তছির উদ্দীন জানান, গত রোববার শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে অনৈতিক কাজে জড়িতের জন্য ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে পত্র প্রেরন করা হয়।

বিদ্যালয়ের সভাপতি ও ইউএনও মোঃ সম্রাট হোসেন জানান, শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় নিয়োজিত ওই শিক্ষকের এহেন কর্মকান্ড কোনভাবেই গ্রহনযোগ্য নয়। ওই শিক্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য করনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ করা হয়েছে। এদিকে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় উল্লসিত শিক্ষার্থীরা শ্রেনিকক্ষে ফিরে যান।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে