গজারিয়া বসতবাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ মেয়ের বিরুদ্ধে

এফএনএস (মোঃ আমিরুল ইসলাম নয়ন; গজারিয়া, মুন্সীগঞ্জ) : | প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম
গজারিয়া বসতবাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ মেয়ের বিরুদ্ধে

সৌদি আরব প্রবাসী জীবনের জমানো কষ্টার্জিত ১ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা পাঠিয়েও নিজের বসতভিটা ও জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বালুয়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা বাবা গিয়াস উদ্দিন ও মা আমেনা খাতুন। প্রবাসী বাবা-মায়ের পাঠানো টাকায় জমি কিনে ও বাড়ি বানিয়ে পরবর্তীতে তা নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে মায়ের নামে থাকা বসতবাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একমাত্র মেয়ে মৌরিন আফরিন রানীর বিরুদ্ধে।বিদ্যুৎ সংযোগ হারিয়ে অন্ধকারে মানবেতর  জীবন কাটাচ্ছেন বৃদ্ধ বাবা-মা. গতকাল সোমবার দুপুরে বাড়িতে পুনরায় মিটারের সংযোগ পাওয়ার আকুল আবেদন জানিয়ে গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী আমেনা খাতুন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে গজারিয়া উপজেলার বড় বালিয়াকান্দি মৌজায় ১০ শতাংশ জমি (সি.এস দাগ ৪৭, আর.এস দাগ ৫২, বি.আর.এস দাগ ৫৩২) ক্রয়ের জন্য ৩২ লক্ষ টাকা মূল্য নির্ধারণ করে ১৫ লক্ষ টাকা বায়না করে সৌদি আরব চলে যান আমেনা ও তার পরিবার। পরবর্তীতে প্রবাস থেকে বাকি ১৭ লক্ষ টাকা এবং রেজিস্ট্রি বাবদ ৩ লক্ষ টাকা পাঠালে তার মেয়ে মৌরিন আফরিন রানী প্রতারণামূলকভাবে জমিটি মায়ের নামে না লিখে নিজ নামে রেজিস্ট্রি করে নেয়। এছাড়া বিদেশ থাকা অবস্থায় বাড়ি নির্মাণের জন্য জমির মূল্যসহ মোট ১ কোটি ৭৫ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা পাঠায় আমেনা খাতুনের পরিবার। সম্প্রতি প্রবাস থেকে দেশে ফিরে জমির দলিল চাইলে মেয়ে দলিল দিতে অস্বীকার করে। ভুক্তভোগী আমেনা খাতুন জানান, পরবর্তীতে গজারিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে খোঁজ নিয়ে তারা জানতে পারেন যে বাড়িটি ১০৩৯ নম্বর দলিল মূলে বিবাদীর (মেয়ে) নামে রেকর্ড করা হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় পঞ্চায়েত সালিশ ও একাধিক মামলা-মোকদ্দমা চললেও কোনো সুরাহা হয়নি। বিদ্যমান এই পারিবারিক বিরোধের জেরে সম্প্রতি গজারিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর কর্মচারীরা বাড়িটির বিদ্যুৎ মিটার কেটে নিয়ে যায়। গত ১০ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগী আমেনা খাতুন বায়না দলিল ও মামলার কাগজপত্র নিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসে যোগাযোগ করলে ম্যানেজার সংযোগ দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং বলেন যে, বাড়ির মালিকানা তাদের নামে না থাকায় নতুন মিটার দেওয়া সম্ভব নয়।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে