প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী

রাশেদ খানকে ঘিরে আশার আলো ঝিনাইদহ বিএনপিতে

এফএনএস (টিপু সুলতান; কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ) : | প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০০ পিএম
রাশেদ খানকে ঘিরে আশার আলো ঝিনাইদহ বিএনপিতে

একসময় ঝিনাইদহ ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অন্যতম দুর্ভেদ্য ঘাঁটি। প্রয়াত বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মশিউর রহমানের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সেই শক্ত সাংগঠনিক ভিত সময়ের পরিক্রমায় অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়ে।নেতৃত্বের বিভাজন, আওয়ামী লীগের প্রতি জেলা নেতাদের দুর্বলতা ও অভ্যন্তরীণ বিরোধে স্লান হওয়া সেই দাপটের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও। জেলার চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতেই পরাজয়ের চরম ধাক্কা খেয়েছিলেন বিএনপির প্রার্থীরা। তবে দীর্ঘ রাজনৈতিক হতাশার অন্ধকার কাটিয়ে ঝিনাইদহ বিএনপি এখন নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে, আর সেই স্বপ্নের মূল কেন্দ্রে উঠে এসেছেন প্রধান মন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী ও সদ্য ঘোষিত ডাকসুর সাবেক জিএস মোঃ রাশেদ খান।

ঝিনাইদহ-৪ আসনে দলীয় কোন্দলে পরাজিত হলেও কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম মুখ রাশেদ খানের জাতীয় রাজনীতিতে নাটকীয় উত্থান  ও গণমাধ্যমে তার যুক্তিনির্ভর বক্তব্য তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। সম্প্রতি ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ এবং সরকারের সচিব পদমর্যাদায় নিয়োগ পাওয়া রাশেদের প্রভাব ও গ্রহন যোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ভোটের মাঠে পরাজিত হয়েও জাতীয় পর্যায়ে রাশেদ খানের এই প্রভাবশালী অবস্থানকে দলটির মাঠপর্যায়ের কর্মীরা দেখছেন ‘মরা গাঙে জোয়ার’ হিসেবে।দীর্ঘদিন নিষিক্রয় ও নানা ভাবে নির্যাাতিত নেতাকর্মীদের প্রশাসনিক সহায়তা দিয়ে তাদের পাশে দাড়ানোর চেষ্টা করছেন রাশেদ। তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ ও প্রশাসনিক ভাবে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ মাঠপর্যায়ে বেশ প্রশংশিত হচ্ছে। নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধরণ মানুষও রাশেদ খানের দ্রুত সহযোগিতায় কৃতজ্ঞ হচ্ছেন। বাকপটু বাগ্মিতা আর কৌশলী পদক্ষেপে তরুণদের কাছে তিনি যেমন আস্থার প্রতিক হয়ে উঠেছেন, তেমনি প্রবীন নেতারাও তাঁকে ঘিরে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন।

রাশেদ খানের বর্তমান ভূমিকা নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা অত্যন্ত আশাবাদী। উপজেলা, পৌরসভা ও জেলা বিএনপির নেতারা যেভাবে রাশেদ খানকে সহায়তা করছেন তাতে বিএনপি পরাজয়ের গ্লানি কাটিয়ে আবারো ঘুরে দাড়াতে সক্ষম হবে। বিশেষ করে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ত্যাগী ও মার্জিত চরিত্রের প্রার্থী মনোনীত করতে পারলে তৃণমুলে বিএনপির পুরানো সুদিন ফিরে আসতে পারে।ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান বলেন, রাশেদ খান ঝিনাইদহের সন্তান ও আমাদের গর্ব। তিনি নিজের কর্মকান্ড দিয়ে বিএনপির পুরোনো দিনের শক্ত ঘাঁটিকে আবারও সংগঠিত করতে প্রতি সপ্তায় ঝিনাইদহে আসছেন। দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন। প্রধান মন্ত্রী রাশেদ খানকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন তা তিনি যথাযথ ভাবেই পালন করছেন।মহেশপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, রাশেদ খান প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হওয়ায় তৃণমুল বিএনপির জন্য সুখবর বয়ে এনেছে। অনেক মানুষকে তিনি প্রশাসনিক ভাবে সাহায্য করতে পারছেন। তার দ্বারা মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী রাশেদ খানকে সঠিক জায়গায় স্থান দিয়েছেন বলে আমি মনে করি।

বিএনপি ঘরণার রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জিয়া পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল হক বলেন, তিনটি আসনে পরাজয়ের তিক্ত দাগ ঝিনাইদহ বিএনপির জন্য বড় এক রাজনৈতিক ধাক্কা ছিল। কিন্তু সেই ক্ষতের ওপর দাঁড়িয়েই আজ নতুন দিনের স্বপ্ন আঁকছেন তৃণমূলের কর্মীরা। আইনমন্ত্রী আসাদুুজ্জামান ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খানের হাত ধরে ঝিনাইদহের উন্নয়ন তরান্বিত হবে বিশেষ করে রেল লাইন, মেডিকেল কলেজ ও প্রয়াত এমপি মসিউর রহমানের করা স্থাপনা গুলো যাতে ভালো ভাবে চলে সেটা করাই হবে তাদের মুল লক্ষ্য।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে