৩০ বছরের পুরনো বসতভিটা দখল চেষ্টার অভিযোগে কুয়াকাটার এক পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

এফএনএস (কুয়াকাটা, পটুয়াখালী) : | প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম
৩০ বছরের পুরনো বসতভিটা দখল চেষ্টার অভিযোগে কুয়াকাটার এক পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

কুয়াকাটায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ৩০ বছরের ভোগদখলের বসতবাড়ি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। শুধু দখল চেস্টাই নয়, একটি পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখাসহ মামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়েছে। এমনসব অভিযোগ তুলে, সংবাদ সম্মেলন করেছেন সেলিম মুন্সী নামের এক ভুক্তভোগী। আজ বৃহস্পতিবার, (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১ টায় কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

কুয়াকাটার মুসল্লিয়াবাদ এলাকার বাসিন্দা মো: সেলিম মুন্সী সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, ৩১ বছর ধরে শান্তিপুর্ণভাবে ভোগদখল থাকা বসতঘরসহ জমি থেকে উচ্ছেদের লক্ষ্যে জাহিদুল ইসলাম সুমন নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি মামলা হামলাসহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে। লোকজন নিয়ে ঘরের সামনে এসে মহড়া দিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যাবার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এ কারণে নারী ও শিশুরা ভয়ে ঘর থেকে বেড় হতে সাহস পাচ্ছে না। একধরনের অবরুদ্ধ দশায় আছেন তিনি।

সেলিম মুন্সী জানান, ১৯৯৫ ইং সালে জমি ক্রয় করে বাড়িঘর নির্মাণ করে পরিবার পরিজন নিয়ে ৩ দশক ধরে বসবাস করে আসছি। এসএ এবং বিএস জরিপ রেকর্ড তার নামেই রয়েছে। (যার বিএস খতিয়ান- ১১২২, দাগ নম্বর- ৪০৯১)। 

তিনি আরো বলেন, কুয়াকাটা ভূইয়া মার্কেটের আচার ব্যবসায়ী মোঃ জাহিদুর ইসলাম সুমন ২০২৫ সালে অন্য এক ওয়ারিশের কাছ থেকে একই দাগ খতিয়ানে ২১ শতক জমি ক্রয় করেন। ক্রয়কৃত জমির দলিলের চৌহদ্দি দিয়েছে আমার ভোগদখলী বাড়িঘরের মধ্যে। দাতার নাল জমি থাকা সত্বেও অসৎ উদ্দেশ্যে এমন কাজ করেন সুমন। এ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে তিনি কলাপাড়া সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের মামলা করেন। গত ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিবাদী মো. জাহিদুর ইসলাম সুমনের বিরুদ্ধে ওই জমির ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে করে গত ৯ সেপ্টেম্বর (বুধবার) সকালে জাহিদুর ইসলাম সুমন বহিরাগত ক্যাডার ও লাঠিয়াল বাহিনীকে সাথে নিয়ে তাদের বাড়ির সামনে অবস্থান নেন। তারা পুরো বাড়িটি ঘিরে ফেলেন। ভেতরের সদস্যদের অবরুদ্ধ করে ফেলে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ ঘটনার পর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে সেলিম মুন্সী দাবী করেন, সুমন একজন ভূমি দস্যু এবং প্রতারক। বার্মিজ আচার, বিভিন্ন বিদেশি চকলেটের নকল পণ্য বিক্রির মাধ্যমে পর্যটক দর্শনার্থীদের সাথে প্রতারণা করে আসছিল। এ নিয়ে গণমাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশের পর ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে তাকে জরিমানা করে। সেলিম মুন্সি অসুস্থ থাকায় তার পক্ষে তার শাহীন আলম লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনান।

সেলিম মুন্সী বলেন, "বাইরে অস্ত্রধারী ও বহিরাগতদের মহড়া দেখে ঘরের ভেতর আমার ৪ ও ৯ বছরের দুই নিষ্পাপ নাতি অনবরত আতঙ্কে থাকে। অনবরত কান্নাকাটি করছে। ঘরে অসুস্থ স্ত্রী এবং বৃদ্ধ বাবা এবং শিশুরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ভয়ে আমরা ঘর থেকে বাহিরে যাবার সাহস পাচ্ছি না।

সংবাদ সম্মেলনে প্রভাবশালী ভূমিদস্যু নকল পন্য বিক্রেতা সুমনের এমন কর্মকাণ্ডের হাত থেকে রেহা পেতে মহিপুর থানা পুলিশ সহ প্রশাসনিক উর্ধতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী সেলিম মুন্সি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত জাহিদুর ইসলাম সুমন তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা দাবী করে গণমাধ্যমকে জানান, ২০২২ ই সালে মোশাররফ হোসেন এর কাছ থেকে ক্রয় করে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করেন। তিনি বলেন, আমার জমিতে আমাকে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না উল্টো এমন অভিযোগ করেন তিনি।

মহিপুর থানার ওসি মো. শামিম হাওলাদার বলেন, এ সংক্রান্ত একটি জিডি করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে