মাদক নির্মূলে নীলফামারীর সৈয়দপুর থানা পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। গত এক সপ্তাহে শহরের বিভিন্ন মহল্লায় দিন-রাত অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ফেনসিডিল, ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে চিহ্নিত কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে পর্দার আড়ালে থেকে মাদক ব্যবসা পরিচালনাকারীদেরও শনাক্ত করতে কাজ করছে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, সৈয়দপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচা নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে। মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশের সাম্প্রতিক তৎপরতায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।
মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও সৈয়দপুর পৌরসভার সাবেক শ্রেষ্ঠ কাউন্সিলর মো. আক্তার হোসেন ফেকু বলেন, গত এক সপ্তাহে পুলিশ শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের কাছ থেকে ফেনসিডিল, ট্যাপেন্টাডল, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নিয়মিত মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের এ ধরনের ভালো কাজে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা করা প্রয়োজন।
সৈয়দপুর সার্কেলের কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুন্নবী ও সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রেজাউল করিম রেজা বলেন, সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় নিরলসভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে মাদকসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা শহরের বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তারা আরও বলেন, মাদক ব্যবসা ও মাদকসেবনের সঙ্গে জড়িতদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। মাদকমুক্ত সৈয়দপুর গড়তে পুলিশকে সহযোগিতা করতে এবং মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে তথ্য দিতে স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানই নয়, মাদক নির্মূলে পরিবার, সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ নাগরিকদেরও সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই মাদকের ভয়াবহতা থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।