বাড়ছে বরাদ্দ, কমছে না বরিশালের মশা

এফএনএস (বরিশাল প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৭ এএম
বাড়ছে বরাদ্দ, কমছে না বরিশালের মশা

মশক নিধনে বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) বরাদ্দ প্রতিবছরই বাড়ছে। কিন্তু নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মশার উপদ্রব কমছে না। বরং পরিত্যক্ত জলাশয়, ডোবা, নর্দমা ও জমে থাকা পানিতে মশার প্রজননস্থল তৈরি হওয়ায় সন্ধ্যার পর অনেক এলাকায় বেড়ে যায় মশার উৎপাত। এতে বাড়ছে মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি। সিটি করপোরেশনের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মশক নিধনে কীটনাশক ক্রয়ের জন্য বরাদ্দ ছিল ৩ কোটি ৪ লাখ ২১ হাজার ৬০০ টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৮৩ লাখ ৪৫ হাজার ৪৫০ টাকা। আর চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এখাতে বরাদ্দ করা হয়েছে ৪ কোটি টাকা।

অর্থাৎ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ বেড়েছে ৯৫ লাখ ৭৮ হাজার ৪০০ টাকা। তবে মশক নিধন কার্যক্রমের সুফল সমানভাবে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন নগরবাসী। গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত এলাকাগুলোতে মাঝেমধ্যে মশক নিধন অভিযান দেখা গেলেও প্রান্তিক ও আবাসিক এলাকাগুলোতে নিয়মিত ওষুধ ছিটানো হয় না বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে নগরবাসীর। ফলে মশারি ও কয়েল ব্যবহার করেও অনেক সময় স্বস্তি মিলছে না।

সরকারি বিএম কলেজের ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীরা মশার উৎপাতে ভোগান্তিতে পরেছেন। শিক্ষার্থী আব্দুল আলিম জানান, ছাত্রাবাসের আশপাশে নোংরা পানি ও ময়লা জমে থাকায় মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই দুপুরেও মশারির ভেতরে থেকে কয়েল জ্বালিয়ে পড়াশোনা করতে হয়।

বিসিসির প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বলেন, মশক নিধনে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি কীটনাশক ছিটানোর কার্যক্রমও চলছে।

তিনি বলেন, কাজের পরিধি বাড়লে বাজেট কিছুটা বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক। তবে নগরবাসীর অভিযোগ, বরাদ্দ বাড়লেও তার সুফল সমানভাবে পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে নগরীর প্রান্তিক এলাকার অনেক বাসিন্দা নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম না হওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা। মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমাতে নগর কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি নাগরিকদেরও সচেতন হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। বাড়িঘর ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া, নর্দমা ও আবর্জনা পরিষ্কার রাখা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা জরুরি। শুধু ওষুধ ছিটিয়ে মশাবাহিত রোগ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় বলেও মনে করছেন তারা।

বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন, মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সম্মিলিতভাবে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে। বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার ওপরও তিনি গুরুত্বরোপ করে বলেন, সকালে ও বিকেলে মশার কামড়ে ডেঙ্গু রোগ ছড়ায়। তাই দিনেও তিনি মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন।

বিসিসি কর্তৃপক্ষ বলছে, মশক নিধনের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও জোরদার করা হচ্ছে। নগরীর যেসব এলাকায় মশার প্রজননস্থল রয়েছে, সেগুলো পরিষ্কার করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস জানান, নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হলে মশার উপদ্রব অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

অপরদিকে স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের পহেলা জানুয়ারি থেকে ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৭ হাজার ১০৫ জন। এসময়ে মারা গেছেন ১০ জন। ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬ হাজার ৬৭৩ জন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪২২ জন।

স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি প্রতিবছর মশক নিধনে বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়টি কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। শুধু বরাদ্দ বাড়ানো নয়-মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত ওষুধ ছিটানো এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে আরও কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করার প্রত্যাশা করছেন সচেতন নগরবাসী।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে