গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে সাধারণ মানুষ যে চরম ক্ষুব্ধ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা নানাভাবে প্রকাশ করছে। একদিকে গ্যাস-বিদ্যুৎ পাচ্ছে না, আরেক দিকে মাস শেষে তাদের বিল দিতে হচ্ছে। টাকা দিয়ে সেবা না পেলে গ্রাহকদের ক্ষুব্ধ হওয়াই স্বাভাবিক। এই ক্ষুব্ধতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল। ভুতুড়ে বিল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাড়তি বিদ্যুৎ বিল নিয়ে হইচই হচ্ছে। মাত্রাতিরিক্ত বিল দেখে বহু গ্রাহক হতভম্ব। তারা বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সামাজিক মাধ্যমেও। অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলকে ভুতুড়ে বিল অ্যাখ্যা দিয়ে বিভিন্ন বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, প্রকৃত ব্যবহারের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি ইউনিট দেখিয়ে বিল করা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমেও অনেক গ্রাহককে তাদের বিদ্যুৎ বিলের কপি দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। চলতি মাসের বিল এবং আগের মাসের বিলের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য তুলে ধরছে। দেখা যাচ্ছে, আগের মাসের বিলের চেয়ে চলতি মাসের বিল কোনো কোনো ক্ষেত্রে দ্বিগুণ। অসংখ্য মানুষ এই বাড়তি বিল নিয়ে রাগ-ক্ষোভ প্রকাশ করছে। এর কারণ হচ্ছে, বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করলেও তাদের ধারণা রয়েছে, কোন মাসে কমবেশি কত বিল আসতে পারে। বিল যখন দ্বিগুণ হয়ে যায়, তখন সঙ্গতকারণেই তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। বাড়তি বিল নিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করলে তার কোনো সদুত্তর পাওয়া যায় না। এটি এক-দুজনের ঘটনা নয়। প্রায় সকল বিদ্যুৎ গ্রাহক এই ভুতুড়ে বিলের শিকার হচ্ছেন। যারা এসি ব্যবহার করেন, তারা জানেন, বিদ্যুৎ বিল কত আসতে পারে। ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিংয়ে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় থাকার পরও মাস শেষে যদি দেখে বিল দ্বিগুণ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে তিনগুণ, তখন তাদের ক্ষুব্ধ হওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। বিল করার ক্ষেত্রে ভুল প্রমাণিত হলে সংশোধনের আশ্বাস দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বিতরণ সংস্থাগুলো বলছে, এটি নীতিগত কোনো অনিয়ম নয়। কোনো গ্রাহকের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল বিষয়ক কোনো অভিযোগ থাকলে প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করলে সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল আচরণ করারও অনুরোধ করেছে মন্ত্রণালয়। বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল কেন হচ্ছে, এর ব্যাখ্যা বা জবাব সরকারের দেয়া উচিত। সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জন্যই, তা জানাতে হবে। মানুষের দৈনন্দিন জীবন সহজ ও স্বস্তিদায়ক করার জন্য বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হবে।