বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যদিয়ে নড়াইলে মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গণের সাহসী সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ৫৫তম শাহাদাতবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ ট্রাস্টের আয়োজনে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, শোভাযাত্রা, নূর মোহাম্মদের স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন, গার্ড অব অনার প্রদান, দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপন করা হয়। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল দুপুর পর্যন্ত থেকে নূর মোহাম্মদ নগরে এসব কর্মসূচি পালিত হয়।
নড়াইল জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জেলা পরিষদ, বীরমুক্তিযোদ্ধা, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ ট্রাস্ট, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ স্কুল ও কলেজসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে নূর মোহাম্মদের স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক নাজমুল হুদার সভাপতিত্বে এসব অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন-জেলা পরিষদ প্রশাসক বীরমুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান আলেক, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী আছাদুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লিংকন বিশ্বাস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আহসান মাহমুদ রাসেল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর ই আলম সিদ্দিকী, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার টি. এম. রাহসিন কবির, বীরমুক্তিযোদ্ধা তবিবুর রহমান, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মাদ শেখের ছেলে এস এম গোলাম মোস্তফা কামাল, নূর মোহাম্মদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মজিদ সরদার, সাজ্জাদুর রহমান রিপনসহ অনেক।
বক্তারা বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সূর্য্যসন্তান বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের বীরত্বগাথা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে। তার অবদান স্মরণ করে দেশ ও জনকল্যাণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গণের সাহসী সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ ১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোর জেলার গোয়ালহাটি ও ছুটিপুরে পাকবাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে শাহাদাতববরণ করেন। এদিন পাকবাহিনীর গুলিতে সহযোদ্ধা নান্নু মিয়া গুরুতর আহত হলেও হাতে এলএমজি এবং আহত নান্নুকে কাঁধে নিয়ে শত্রুপক্ষের দিকে গুলি ছুঁড়তে থাকেন নূর মোহাম্মদ। হঠাৎ পাকবাহিনীর মর্টারের আঘাতে তার হাঁটু ভেঙ্গে যায়। তবুও গুলি চালাতে থাকেন তিনি। এক সময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন নূর মোহাম্মদ শেখ। যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুর গ্রামে তাকে সমাহিত করা হয়। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত হন তিনি। লাল-সবুজের মাঝে স্বাধীন সার্বভৌমত্ব বাংলাদেশে প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে আজো বেঁচে আছেন বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ।
এদিকে, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল সদর উপজেলার চন্ডিবরপুর ইউনিয়নের মহিষখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মোহাম্মদ আমানত শেখ ও মা জেন্নাতুন্নেছা, মতান্তরে জেন্নাতা খানম। বাল্যকালেই বাবা-মাকে হারান তিনি। সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। তার দুই স্ত্রীর কেউই বেঁচে নেই। বর্তমানে এক ছেলে ও তিন মেয়ে আছেন। তারা নড়াইল ও যশোরে বসবাস করেন।
এই বীরশ্রেষ্ঠের গ্রামের নাম পরিবর্তন করে ২০০৮ সালের ১৮ মার্চ ‘নূর মোহাম্মদ নগর’ করা হয়। সেই থেকে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে গ্রামটিতে। এখানে নির্মিত হয়েছে-বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর। এছাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ। ২০০৮ সালের ১৮ মার্চ জাদুঘরটি উদ্বোধন হয়। এছাড়াও নূর মোহাম্মদের বসতভিটায় নির্মিত হয়েছে স্মৃতিস্তম্ভ।