রোগীর মৃত্যু থেকে সংঘর্ষ, নিরপেক্ষ তদন্ত দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

এফএনএস ( মো: রাজিবুল ইসলাম রক্তিম; বগুড়া) : | প্রকাশ: ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:০১ পিএম
রোগীর মৃত্যু থেকে সংঘর্ষ, নিরপেক্ষ তদন্ত দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও স্বজনদের মধ্যে হাতাহাতি এবং পরবর্তী হামলার ঘটনার বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে নিহতের পরিবার। চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের ওপর কয়েক দফায় সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সিসিটিভি ফুটেজ ও আলামত পর্যালোচনার মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত রোগী আব্দুল মালেকের স্বজনেরা। তাঁরা অভিযোগ করেন, শজিমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুল মালেক মারা গেলে তাঁর চিকিৎসাসেবা ও প্রেসক্রিপশন নিয়ে স্বজনদের মনে অসঙ্গতির ছায়া ফেলে। ভুল চিকিৎসার সন্দেহ তৈরি হওয়ায় কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কাছে বিষযটি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। এ নিয়ে কথা বলার একপর্যায়ে কথা-কাটাকাটি শুরু হয় এবং পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

নিহতের স্বজনদের দাবি, তর্কাতর্কির মধ্যেই ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা তাঁদের ওপর প্রথম আকস্মিক হামলা চালান। আক্রমণ সামলাতে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাঁরা নিকটস্থ আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের ফোনে হাসপাতালে আসতে বলেন। তবে স্বজনেরা হাসপাতালে পৌঁছালে তাঁদের ওপরও চড়াও হন চিকিৎসকেরা। পরবর্তীতে হোস্টেল ও মেস এলাকা থেকে আরও অনেক ইন্টার্ন চিকিৎসক এসে সংঘবদ্ধভাবে রোগী ও স্বজনদের ওপর ব্যাপক মারধর চালান। এই হামলায় নিহতের পরিবারের সদস্যসহ উপস্থিত একাধিক স্বজন ও পরিচিতজন গুরুতর আহত হন।

পরিবারের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, কোনো চিকিৎসককে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আক্রমণ বা হয়রানি করার ইচ্ছা তাঁদের ছিল না। অথচ হামলার শিকার হয়ে নিজেরা আহত হওয়ার পরও তাঁদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন, আন্দোলন ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। আহতদের শরীরের ক্ষত, প্রেসক্রিপশন, চিকিৎসার নথিপত্র এবং ছবি পর্যালোচনা করলেই মূল সত্য সামনে আসবে বলে দাবি করেন তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে স্বজনেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চিকিৎসা নিয়ে পরিবারের মনে যৌক্তিক প্রশ্ন তৈরি হতেই পারে। সেই প্রশ্নের সঠিক উত্তর বা ব্যাখ্যা না দিয়ে উল্টো রোগীর স্বজনদের ওপর চড়াও হলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? উপরন্তু সংঘর্ষের পর দীর্ঘ সময় রোগীর মরদেহ হস্তান্তরে নানা গড়িমসি করে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করা হয়েছে। চিকিৎসকদের পেশাগত নিরাপত্তার প্রতি সমবেদনা জানিয়ে নিহতের পরিবার বলে, চিকিৎসকদের নিরাপদ কাজের পরিবেশ যেমন আবশ্যক, তেমনি সাধারণ রোগী ও তাঁদের স্বজনদের মৌলিক নিরাপত্তাও সুনিশ্চিত করতে হবে। পেশাগত পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত না নিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়েছে পরিবারটি। পরিশেষে নিহতের পরিবার স্পষ্ট করে, তাঁদের মূল লক্ষ্য প্রতিশোধ নয়-সত্য উদঘাটন ও ন্যায়বিচার। ঘটনার সময়ের যাবতীয় সিসিটিভি ফুটেজ, সাধারণ মানুষের মোবাইলে ধারণ করা ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং আহতদের মেডিকেল রিপোর্ট পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্তের জন্য স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও গণমাধ্যমের প্রতি জোর দাবি জানান তাঁরা।