লংমার্চে বাধার সৃষ্টি হলে জনরোষের মুখে পড়বে সরকার: গোলাম পরওয়ার

এফএনএস (প্রতিবেদক): | প্রকাশ: ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম
লংমার্চে বাধার সৃষ্টি হলে জনরোষের মুখে পড়বে সরকার: গোলাম পরওয়ার

ছয় দফা দাবিতে ১১ দলের লংমার্চে সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। কর্মসূচি পালনে কোথাও বাধা এলে সরকারকে জনরোষের মুখে পড়তে হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। 

শুক্রবার (৪ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক।

আগামীকাল শনিবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চ। কর্মসূচির সর্বশেষ প্রস্তুতি জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিরোধী দল সংসদের ভেতরে ও বাইরে নিয়মতান্ত্রিক ও গঠনমূলক আন্দোলন করছে। লংমার্চও হবে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি। সরকার উৎখাতের কোনো আন্দোলন বিরোধী দল করছে না।

সরকারের উদ্দেশে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, কর্মসূচি সফল করতে প্রশাসনিক সহযোগিতা দিয়ে জনগণের আস্থা বজায় রাখা উচিত।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, আগামীকাল (শনিবার) সকাল সাতটা থেকে আটটার মধ্যে শাপলা চত্বরে প্রথম সমাবেশ হবে। এরপর নারায়ণগঞ্জের চিটাগাং রোড, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার ও চৌদ্দগ্রাম, ফেনীর মহিপাল এবং চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সভা হবে। সর্বশেষ সমাবেশ হবে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে।

যানজট বা অন্য কোনো সমস্যা না হলে সন্ধ্যা সাতটার দিকে লংমার্চের বহর লালদীঘি ময়দানে পৌঁছানোর কথা। তবে এ ধরনের কর্মসূচির সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে, তাই সে প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

পথে মানুষের ভোগান্তি কমানো এবং পথসভার সময় সংক্ষিপ্ত রাখতে সব সভায় ১১ দলের সব নেতা বক্তব্য দেবেন না বলে জানান গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, পথসভার আয়োজন করবে স্থানীয় শাখাগুলো এবং স্থানীয় নেতা-কর্মীরা সেখানে উপস্থিত থাকবেন। তবে গাড়িবহরে থাকা নেতা-কর্মীরা পথসভায় নামবেন না। শুধু যাঁদের বক্তব্য দেওয়ার কথা, তারাই নামবেন। পথে পথে আরও গাড়ি বহরে যুক্ত হতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন যুক্ত হওয়া গাড়িগুলো বহরের শেষ দিকে থাকবে।

লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক বলেন, লংমার্চে অংশগ্রহণকারীদের ডেলিগেট কার্ড দেওয়া হবে। বাসগুলোতে থাকবে স্টিকার। নিরাপত্তা, অ্যাম্বুলেন্স, দলের সাংস্কৃতিক ও আইটি বিভাগ এবং মেডিক্যাল টিমের গাড়ি কীভাবে চলবে, সে বিষয়েও পরিকল্পনা করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সব সমস্যার সমাধানে ছয় মাস যথেষ্ট সময় নয়। কিন্তু গণভোটের রায় বাস্তবায়নের সময়সীমার যে ‘ট্রেন’,সেটি স্টেশন ছেড়ে চলে গেছে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনের ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়া এবং ১৮০ দিনের মধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা ছিল। সরকার তা করেনি। এসব বাস্তবায়নে কত সময় লাগবে, সরকার তা সংসদেই বলুক।

দেশে অপরাধ পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, তবে নৃশংসতা, বর্বরতা, লুটপাট ও দলীয়করণ আগের সরকারের তুলনায় কমিয়ে আনা যেত। কিন্তু সরকার তা না করে একই পথে হাঁটছে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ফ্যাসিবাদীরা’ এখন যে আস্ফালন করছে এবং আধিপত্যবাদী শক্তির প্রশ্রয়ে বিভিন্ন ডিভাইস ব্যবহার করে উসকানি দিচ্ছে, তা ছয় মাসের মধ্যে হওয়ার কথা ছিল না।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে