বাড়ছে অনলাইনে প্রতারণা

সচেতনতার পাশাপাশি কার্যকর নজরদারি জরুরি

এফএনএস | প্রকাশ: ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম
সচেতনতার পাশাপাশি কার্যকর নজরদারি জরুরি

ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশে অনলাইন প্রতারণার ঘটনাও দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভুয়া ওয়েবসাইট, অনলাইন কেনাকাটা, বিনিয়োগ, চাকরি কিংবা সরকারি সেবার নামে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলার ঘটনা এখন প্রায়ই সামনে আসছে। গত কয়েক মাসে ভুয়া সরকারি ওয়েবসাইট তৈরি করে ট্রাফিক জরিমানার নামে ব্যাংকিং তথ্য হাতিয়ে নেওয়া, অনলাইনে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ এবং ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রতারণার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। অনলাইন প্রতারণার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, এতে প্রযুক্তিগত জ্ঞানের সীমাবদ্ধতাকে কাজে লাগানো হচ্ছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম ও লোগো ব্যবহার করে তৈরি করা ভুয়া ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির নামে খোলা পেজ এবং আকর্ষণীয় বিনিয়োগের বিজ্ঞাপন সহজেই সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করছে। এমনকি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগে দেশের বাইরে বাংলাদেশিদের গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটেছে। ফলে এটি এখন ব্যক্তিগত প্রতারণার গণ্ডি পেরিয়ে সংঘবদ্ধ ও আন্তদেশীয় অপরাধের রূপ নিচ্ছে। অনলাইন প্রতারণার আরেকটি বড় ঝুঁকি হলো ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য চুরি। প্রতারকেরা বিভিন্ন কৌশলে পিন, ওটিপি, ব্যাংক কার্ডের তথ্য, অনলাইন ব্যাংকিংয়ের পাসওয়ার্ড কিংবা ব্যক্তিগত পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করছে। এসব তথ্য একবার হাতছাড়া হলে শুধু একটি লেনদেন নয়, পুরো ব্যাংক হিসাব বা ডিজিটাল পরিচয়ও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। এমতাবস্থায় প্রতারণা ঠেকাতে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্ষমতাও বাড়াতে হবে। অনলাইন প্রতারণার অভিযোগ দ্রুত গ্রহণ, ডিজিটাল আলামত সংরক্ষণ, অর্থের লেনদেন শনাক্ত এবং প্রতারকচক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাংক, মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান, অনলাইন মার্কেটপ্লেস ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর মধ্যেও সমন্বয় বাড়াতে হবে। সন্দেহজনক লেনদেন দ্রুত শনাক্ত ও সাময়িকভাবে স্থগিত করার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি স্কুল, কলেজ ও কর্মক্ষেত্রে ডিজিটাল নিরাপত্তা সম্পর্কে নিয়মিত সচেতনতা কার্যক্রম চালাতে হবে। কারণ প্রযুক্তির ব্যবহার যত বাড়বে, প্রতারণার কৌশলও তত বেশি পরিবর্তিত হবে। অনলাইন প্রতারণা এখন শুধু আর্থিক ক্ষতির বিষয় নয়; এর সঙ্গে মানুষের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, তথ্যের গোপনীয়তা ও ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর আস্থাও জড়িত। তাই সচেতনতার পাশাপাশি দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, আর্থিক লেনদেনে নিরাপত্তা এবং প্রতারকচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ এখনই নিশ্চিত করতে হবে।