জামিন মেলেনি বিদিশার

নিজস্ব প্রতিবেদন | প্রকাশ: ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০১:১৭ পিএম
জামিন মেলেনি বিদিশার
ছবি: সংগ্রহীত

ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে প্রতারণার মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক। আদালত তার আপিল গ্রহণ করলেও জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন। ফলে আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ শাহজাহান কবিরের আদালতে বিদিশার জামিন আবেদনের শুনানি হয়। তার পক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়াসহ কয়েকজন আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। অন্যদিকে, বাদীপক্ষে অ্যাডভোকেট হেমায়েত উদ্দিন খান হিরণ জামিনের বিরোধিতা করেন।

বিদিশার আইনজীবী মো. মাহমুদুল কবির জানান, বিদিশা সাজার বিরুদ্ধে আপিল করেছেন এবং আদালত সেই আপিল গ্রহণ করেছেন। জামিনের আবেদনে তার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান রয়েছে এবং তিনি একজন নারী, এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

এর আগে গত ২০ মে ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে প্রতারণার মামলায় বিদিশাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

সাজা পরোয়ানার ভিত্তিতে গত ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে বিদিশাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করা হয়। সেদিনও আপিলের শর্তে তার জামিন চাওয়া হয়েছিল। তবে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন সিকদার ২০০৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি মামলা করেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০১ সালের ১ জুলাই মোশাররফ হোসেনকে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট দেখান বিদিশা এবং সেটি বিক্রির প্রস্তাব দেন। পরে ফ্ল্যাটটি ৮০ লাখ টাকায় বিক্রির চুক্তি হয়।

এরপর ২০০১ সালের ১০ জুলাই বিদিশা বাদীকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে নেন। সেখানে তার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলা হয়। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কাওরান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই টাকা পরিশোধ করা হয়। পরে উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে বাকি টাকা পরিশোধের পর ফ্ল্যাটটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

পরে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হলে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বিদিশা ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেন। ওই চেক ২০০৫ সালের ২ মে ব্যাংকে প্রত্যাখ্যাত হয়।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, এরপর বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে টাকা কিংবা ফ্ল্যাট কোনোটিই বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। টাকা ফেরত বা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি করলে সন্ত্রাসী দিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়।

এই মামলার বিচার শেষে গত ২০ মে বিদিশাকে দুই বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও এক মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে আদেশ দেওয়া হয়।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে