বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্যসেবা-অবহেলার দায় কার?

এফএনএস | প্রকাশ: ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৮ পিএম
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্যসেবা-অবহেলার দায় কার?

উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিলাসিতা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার। অথচ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থীর চিকিৎসাসেবার দায়িত্ব বর্তমানে মাত্র একজন চিকিৎসকের ওপর ন্যস্ত-এ বাস্তবতা শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট নয়, বরং দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার প্রতিচ্ছবি। প্রতিদিন গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ শিক্ষার্থী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। একজন চিকিৎসকের পক্ষে এত বিপুল সংখ্যক রোগীকে সময় ও মান বজায় রেখে সেবা দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়। এর ফলে দীর্ঘ অপেক্ষা, প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট, জরুরি পরিস্থিতিতে পর্যাপ্ত সাড়া দিতে না পারা এবং একটি মাত্র অ্যাম্বুলেন্সের ওপর নির্ভরশীলতা শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসা, জরুরি সেবা এবং দ্রুত রেফারেল ব্যবস্থা কার্যকর না হলে অসুস্থতার প্রভাব শুধু ব্যক্তিগত নয়, শিক্ষা কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্যে স্পষ্ট, নতুন চিকিৎসক নিয়োগের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে কর্তৃপক্ষ। অর্থায়ন ও জনবল কাঠামোর সীমাবদ্ধতা বাস্তব সমস্যা হলেও দীর্ঘদিন ধরে এমন গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। একই সঙ্গে অবকাঠামোগত সংকট, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব এবং আধুনিক মেডিকেল ল্যাব স্থাপনে বিলম্বও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি এবং মেডিকেল সেন্টারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা সেবার মানোন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। এটি ইতিবাচক দিক হলেও কেবল পরিকল্পনা বা আশ্বাসে সংকটের সমাধান হবে না। প্রয়োজন সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা, যার মাধ্যমে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী বৃদ্ধি এবং অন্তত আরও একটি অ্যাম্বুলেন্স সংযোজন করা সম্ভব হবে। বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়; এটি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও সুস্থ শিক্ষাজীবনেরও নিশ্চয়তা দেওয়ার প্রতিষ্ঠান। তাই স্বাস্থ্যসেবাকে গৌণ বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, ইউজিসি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও অর্থায়নের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কার্যকর, আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই হওয়া উচিত এখন সময়ের দাবি। কারণ সুস্থ শিক্ষার্থীই একটি কার্যকর বিশ্ববিদ্যালয় এবং সমৃদ্ধ জাতি গঠনের অন্যতম ভিত্তি।