ভোলা রক্ষার প্রকল্পে প্রয়োজন দ্রুততা, তবে ব্যয়ে থাকতে হবে স্বচ্ছতা

এফএনএস | প্রকাশ: ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৮ পিএম
ভোলা রক্ষার প্রকল্পে প্রয়োজন দ্রুততা, তবে ব্যয়ে থাকতে হবে স্বচ্ছতা

মেঘনা নদীর অব্যাহত ভাঙন ভোলা জেলার মানুষের জন্য বহু বছরের বাস্তবতা। প্রতি বছর নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, কৃষিজমি ও বিভিন্ন অবকাঠামো। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকির সঙ্গে এই নদীভাঙন যুক্ত হয়ে উপকূলীয় জনপদের জীবন ও অর্থনীতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। এমন প্রেক্ষাপটে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকা রক্ষায় প্রায় ৬৮৬ কোটি টাকার প্রকল্পটি নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী উদ্যোগ। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী নদীতীর সংরক্ষণ, উপকূলীয় বাঁধ পুনর্বাসন, বাঁধের ঢাল সুরক্ষা এবং পানি নিষ্কাশন অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে নদীভাঙন, জলোচ্ছ্বাস ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমানো হবে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পদ সুরক্ষা, কৃষিজমি রক্ষা এবং স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। পরিকল্পনা কমিশনের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণেও প্রকল্পটিকে লাভজনক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা এর প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালো করে। তবে প্রয়োজনীয়তা যতই স্পষ্ট হোক, প্রকল্পের ব্যয় নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্নকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। মাত্র চার কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণে ৫০০ কোটির বেশি ব্যয়ের প্রাক্কলনকে পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) অত্যধিক বলে মন্তব্য করেছে। পরবর্তীতে কিছু ব্যয় কমানো ও প্রকল্পের বিভিন্ন উপাদান পুনর্বিন্যাস করা হলেও মূল প্রশ্ন থেকে যায়-প্রতিটি ব্যয় কি বাস্তব প্রয়োজন ও কারিগরি যুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ? পানি উন্নয়ন বোর্ড গভীর স্কাওয়ার, তীব্র স্রোত এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বের প্রয়োজনীয়তার যুক্তি তুলে ধরে ব্যয়ের ব্যাখ্যা দিয়েছে। এসব কারিগরি কারণ যথার্থ হতে পারে। কিন্তু বড় অঙ্কের সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে কেবল কারিগরি ব্যাখ্যাই যথেষ্ট নয়; দরকার স্বচ্ছ ব্যয় বিশ্লেষণ, প্রতিযোগিতামূলক ক্রয়প্রক্রিয়া এবং স্বাধীন তদারকি। পিইসি যেভাবে বিভিন্ন খাতে সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছে, তা প্রকল্প মূল্যায়ন ব্যবস্থার কার্যকারিতার ইতিবাচক দিকও তুলে ধরে। উপকূলীয় অঞ্চলের সুরক্ষা কোনো বিলাসিতা নয়; এটি মানুষের জীবন, খাদ্যনিরাপত্তা ও স্থানীয় অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের প্রয়োজন রয়েছে। তবে একই সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে, জনস্বার্থের প্রতিটি টাকা সর্বোচ্চ দক্ষতা ও জবাবদিহির সঙ্গে ব্যয় হচ্ছে। সময়মতো এবং মানসম্পন্ন বাস্তবায়নই শেষ পর্যন্ত এই প্রকল্পের প্রকৃত সাফল্য নির্ধারণ করবে।