ঢাকা বাইপাস সড়ক দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। গাজীপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত এশিয়ান হাইওয়ের অংশ হিসেবে এর সম্প্রসারণ দেশের পরিবহনব্যবস্থা, শিল্পাঞ্চলের সংযোগ এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কিন্তু যে উন্নয়ন মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার কথা, সেই প্রকল্পেই যদি সড়কের মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি রেখে নির্মাণকাজ এগিয়ে চলে, তবে তা উদ্বেগেরই বিষয়। মদনপুর থেকে ভুলতা-গাউছিয়া অংশে শতাধিক বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণ না করেই সড়ক প্রশস্তকরণ ও সার্ভিস লেনের পাকা কাজ চলার অভিযোগ প্রকল্প বাস্তবায়নের সমন্বয় ঘাটতির স্পষ্ট উদাহরণ। নির্মাণাধীন সড়কে এমন প্রতিবন্ধকতা শুধু চালক ও যাত্রীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নয়, প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি। ভারী যানবাহন চলাচলকারী একটি মহাসড়কে সামান্য অসাবধানতাও ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। প্রকল্প কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার চিঠি ও মৌখিকভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। অন্যদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দাবি, নতুন স্থানে খুঁটি স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় মাটি ও অবকাঠামো প্রস্তুত না হওয়ায় তারা কাজ শুরু করতে পারছে না। দুই পক্ষের এই পরস্পরবিরোধী অবস্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতাই সামনে আনে-বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের অভাব। হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে এমন সমন্বয়হীনতা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে বা নির্মাণকাজের সঙ্গে সমান্তরালভাবে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও টেলিযোগাযোগের মতো ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ শেষ করার বিষয়টি পরিকল্পনার অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়া উচিত। অন্যথায় একদিকে যেমন প্রকল্পের ব্যয় ও সময় বাড়ে, অন্যদিকে জননিরাপত্তাও মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দীর্ঘ বিলম্বের পর চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করার তাগিদ গুরুত্বপূর্ণ হলেও নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস চলতে পারে না। সড়ক খুলে দেওয়ার আগেই সব বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণ, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে। উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা মানুষের জীবনকে নিরাপদ ও সহজ করে। তাই ঢাকা বাইপাস সড়কের এই প্রকল্পে দ্রুততার পাশাপাশি জবাবদিহি, সমন্বয় এবং সর্বোপরি জননিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। উন্নয়নের সড়ক যেন কোনোভাবেই দুর্ঘটনার ফাঁদে পরিণত না হয়, সেটিই এখন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রধান দায়িত্ব।