গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কামালেরপাড়া ইউনিয়নে অবৈধভাবে গাছ পুড়িয়ে কয়লা উৎপাদনের অভিযোগ শুধু একটি এলাকার পরিবেশগত সংকট নয়; এটি দেশের বনসম্পদ সংরক্ষণ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এসব কারখানায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করা হচ্ছে। এতে বন উজাড়ের পাশাপাশি বায়ুদূষণ, মাটির উর্বরতা হ্রাস এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কাঠ পোড়ানোর ফলে নির্গত ধোঁয়া ও ক্ষতিকর গ্যাস শুধু আশপাশের পরিবেশ দূষিত করে না, দীর্ঘমেয়াদে মানুষ, গবাদিপশু ও জীববৈচিত্র্যের জন্যও ঝুঁকি সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে নির্বিচারে গাছ কাটার কারণে স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবও আরও তীব্র হতে পারে। পরিবেশ সুরক্ষার এই সময়ে এমন কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতে অভিযান চালিয়ে কারখানাগুলো বন্ধ করা হলেও পরে সেগুলো আবার চালু হয়েছে। অভিযোগগুলো সত্য হলে তা আইনের প্রয়োগ ও নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তবে এ ধরনের অভিযোগের যথাযথ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়াই হবে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য পথ। একই সঙ্গে নিরপরাধ কাউকে হয়রানি না করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তরের নজরদারিতে রয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘোষণার কার্যকর বাস্তবায়ন এখন সবচেয়ে জরুরি। শুধু অভিযান পরিচালনা নয়, অবৈধ কারখানাগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখা, কাঠের অবৈধ সরবরাহ বন্ধ করা এবং পরিবেশবিষয়ক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত তৎপরতা প্রয়োজন। পরিবেশ রক্ষা কেবল সরকারের দায়িত্ব নয়; এটি নাগরিকদেরও যৌথ দায়িত্ব। বন উজাড় ও পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ এবং বিকল্প জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি করলে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড কমিয়ে আনা সম্ভব। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং পরিবেশ আইন বাস্তবায়নে কোনো ধরনের শৈথিল্যের সুযোগ থাকা উচিত নয়।