অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে প্রযুক্তি ও উৎপাদনশীলতার বিকল্প নেই

এফএনএস | প্রকাশ: ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৫ পিএম
অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে প্রযুক্তি ও উৎপাদনশীলতার বিকল্প নেই

বিশ্ব অর্থনীতির পরিধি ক্রমাগত সম্প্রসারিত হলেও বৃহত্তম অর্থনীতির দেশগুলোর তালিকায় এখনো কোনো মুসলিমপ্রধান দেশের স্থান হয়নি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সাম্প্রতিক প্রাক্কলনে তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া ও সৌদি আরব শীর্ষ মুসলিমপ্রধান অর্থনীতি হলেও তারা বৈশ্বিক তালিকায় যথাক্রমে ১৬তম, ১৭তম ও ১৯তম অবস্থানে রয়েছে। এই বাস্তবতা শুধু পরিসংখ্যানের বিষয় নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক কাঠামো, উৎপাদনশীলতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নের গুরুত্বও তুলে ধরে। বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতিগুলোর সাফল্যের পেছনে রয়েছে শক্তিশালী শিল্পভিত্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনে ধারাবাহিক বিনিয়োগ, দক্ষ মানবসম্পদ এবং কার্যকর প্রতিষ্ঠান। উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন, বহুজাতিক ব্র্যান্ডের বিকাশ এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে নেতৃত্ব তাদের অর্থনীতিকে টেকসই ভিত্তি দিয়েছে। অর্থনৈতিক সক্ষমতা তাই শুধু জিডিপির আকারে নয়, সেই জিডিপি কোন খাত থেকে আসছে এবং কতটা মূল্য সংযোজন সৃষ্টি করছে-তার ওপরও নির্ভর করে। অন্যদিকে, অনেক মুসলিমপ্রধান দেশের অর্থনীতি এখনো তেল, গ্যাস, খনিজ, কৃষিপণ্য কিংবা অন্যান্য প্রাথমিক কাঁচামালের ওপর তুলনামূলকভাবে বেশি নির্ভরশীল। এসব খাত আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য ওঠানামার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হওয়ায় অর্থনীতি সহজেই বহিরাগত ধাক্কার মুখে পড়ে। পাশাপাশি উচ্চ প্রযুক্তি, গবেষণা, উদ্ভাবন ও শিল্প বৈচিত্র্যে পিছিয়ে থাকায় বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তবে এই চিত্র অপরিবর্তনীয় নয়। কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে অর্থনীতির বহুমুখীকরণ, প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ এবং শিল্পায়নের মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনা তৈরির চেষ্টা করছে। দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণা, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং উদ্ভাবনবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা গেলে অর্থনীতির গুণগত রূপান্তর সম্ভব। একই সঙ্গে সুশাসন, নীতির ধারাবাহিকতা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে কার্যকর অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন কেবল প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভর করে অর্জন করা যায় না; এর জন্য প্রয়োজন জ্ঞান, প্রযুক্তি এবং মানবসম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার। বর্তমান বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার যুগে যেসব দেশ মূল্য সংযোজন, উদ্ভাবন এবং দক্ষ জনশক্তিতে বিনিয়োগ করবে, তারাই আগামী দিনের অর্থনীতিতে নেতৃত্ব দেবে। তাই দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পায়ন এবং মানবসম্পদ উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া সময়ের দাবি।