সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকে বলিউডে পা রাখা অভিনেত্রী দিয়া মির্জা অভিনয়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে দর্শকের পরিচিত মুখ। নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করলেও ২০০৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘তুমসা নেহি দেখা’ সিনেমার ‘মুঝে তুমসে মোহাব্বত হ্যায়’ গানটি তাকে নতুন করে আলোচনায় আনে। তবে গানটির শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা ছিল তার জন্য সহজ ছিল না।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই সময়ের কথা তুলে ধরে দিয়া জানান, গানের একটি দৃশ্যে তাকে সেটে উপস্থিত শত শত পুরুষের সামনে অন্তর্বাস পরে নাচতে হয়েছিল। শুরুতে বিষয়টি নিয়ে দ্বিধা ও অস্বস্তিতে ছিলেন তিনি। নিজের শরীর নিয়েও তখন খুব একটা আত্মবিশ্বাসী ছিলেন না এই অভিনেত্রী।
হায়দরাবাদে রক্ষণশীল পরিবেশে বেড়ে ওঠার কারণে এমন পোশাকে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো তার জন্য কঠিন ছিল বলে জানান দিয়া। একজন নারী হিসেবে ওই শুটিংকে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম কঠিন অভিজ্ঞতা হিসেবেও বর্ণনা করেছেন তিনি।
তবে শেষ পর্যন্ত ওই অভিজ্ঞতাই তার মধ্যে নতুন ধরনের আত্মবিশ্বাস তৈরি করে। দিয়া বলেন, “এই শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা আমাকে এমনভাবে মুক্ত করেছিল, যা আমি কখনো আশা করিনি।”
গানের নৃত্যপরিচালক বৈভবী মার্চেন্টের ভূমিকার কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন দিয়া। তার ভাষ্য, বৈভবীর কারণেই তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শুটিংটি করতে পেরেছিলেন। সেটে কাজ করা প্রত্যেকেই তাকে নিরাপদ অনুভব করিয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।
কেন অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সত্ত্বেও ওই দৃশ্যে কাজ করতে রাজি হয়েছিলেন, সেটিও ব্যাখ্যা করেছেন দিয়া। তার মতে, একজন অভিনেতার কাছে চরিত্রের প্রয়োজন এবং চরিত্রের ভেতরের সত্যকে বোঝা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
দিয়ার ভাষায়, “বিষয়টি অস্বস্তিকর হতে পারত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। কারণ আমি বুঝতে পেরেছিলাম, একজন অভিনেতার জন্য চরিত্রের সত্যিটা খুঁজে বের করা জরুরি এবং সেই চরিত্রের মাধ্যমে কী প্রকাশ করা হচ্ছে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আরও বলেন, “তাই ঘরে ৫০০ জন মানুষ থাকুক বা ১ হাজার জন, সেটা আর আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল না।”
ইমরান হাশমির সঙ্গে ‘মুঝে তুমসে মোহাব্বত হ্যায়’ গানে দিয়ার গ্ল্যামারাস নাচ দর্শকের নজর কেড়েছিল। কিন্তু পর্দায় দেখা সেই দৃশ্যের পেছনে অভিনেত্রীর জন্য ছিল নিজের অস্বস্তি ও সীমাবদ্ধতার সঙ্গে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা।
দিয়ার মতে, ওই শুটিংয়ের পর নিজের শরীর নিয়ে আত্মবিশ্বাসও বেড়ে যায় তার। দর্শকের কাছে যা ছিল একটি গ্ল্যামারাস গানের দৃশ্য, তার কাছে সেটিই হয়ে ওঠে নিজের সীমাবদ্ধতা ভেঙে বেরিয়ে আসা, আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া এবং মুক্তির অনুভূতির একটি স্মরণীয় অধ্যায়।