চাঁদপুর শহরের ‘এসকে শিল্পালয়’-এর স্বত্বাধিকারী স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস ও তাঁর পরিবারের তিন সদস্যকে চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ট্রাকে করে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে নিখোঁজ ব্যবসায়ী পিন্টু দাসকে সপরিবারে উদ্ধার করেছ সক্ষম হয়েছে পুলিশ। চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধার হওয়া পিন্টু দাসের সঙ্গে তার স্ত্রী রিমি এবং দুই ছেলেও রয়েছেন। পরিবারটি মূলত নিখোঁজের ছদ্মবেশে আত্মগোপনে ছিল।
আজ শুক্রবার গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান। তিনি জানান, গত ২২ আগস্ট পিন্টু দাস নিঁখোজ হয়েছেন মর্মে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় তার বাড়ির মালিকের ছোটো ছেলে রাসেল খান একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নম্বর: ১৩৯৬) করেন। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে জনমনে তীব্র শঙ্কা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ পিন্টু দাসের বাসায় গিয়ে দেখতে পায় ঘরে কোনো মালামাল নেই। পরবর্তীতে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, কয়েকজন শ্রমিক ট্রাকে করে মালামাল তুলছেন। এই সূত্রের ওপর ভিত্তি করে পিন্টু দাসের কুমিল্লার শ্বশুরবাড়ি, রাঙামাটিতে থাকা তার ভাইয়ের কর্মস্থল এবং সম্ভাব্য সব আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে অভিযান চালানো হলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ মালামাল বহনকারী ট্রাকের চালককে শনাক্ত করে। ট্রাকচালকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম জেলার পটিয়ায় পিন্টু দাসের গ্রামের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ভোররাতে তাকে সপরিবারে উদ্ধার করা হয়।
অতিরিক্তি পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান আরো জানান, মিডিয়াজুড়ে পিন্টু দাসকে ‘আটক বা গ্রেপ্তার’ করার যে গুঞ্জন উঠেছে তা সঠিক নয়; মূলত তাকে সপরিবারে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তিনি ঠিক কী কারণে সপরিবারে আত্মগোপনে গিয়েছিলেন বা তার বিরুদ্ধে দোনা-পাওনা বা অপরাধমূলক অভিযোগ আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।