জামালপুরে ইশরাত জাহান (৩৪) নামে এক গৃহবধু হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামী কাউওসার আহমেদ খানকে (৩২) গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে শহরের বাগেরহাটা এলাকায় পিবিআই কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গত ২৩ আগস্ট শনিবার সকালে জামালপুর শহরের পাঁচরাস্তা মোড় এলাকার কলাবাগান গলিতে বাবুল মিয়ার বাড়ির পাঁচ তলায় ইশরাত জাহান নামের এক গৃহবধুর মরদেহ পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে জানা যায় নিহত ইশরাত জাহান ও কাউসার আহমেদ খান স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন এবং তাদের ঘরে দুইটি সন্তান আছে। এরপর নিহতের মা মুক্তা বেগম কাউসার আহমেদ খানসহ অজ্ঞাত দুই জনের বিরুদ্ধে জামালপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটির তদন্ত শুরু করে পিবিআই। তদন্তে জানা যায়, ২০১৪ সালে ইশরাত জাহানের সাথে শাওন নামের এক ব্যক্তির বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে একজন মেয়ে ও একজন ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। ইশরাতের স্বামী শাওন ২০২১ সালে মারা গেলে ইশরাত তার দুই সন্তানদের নিয়ে জামালপুর শহরে বসবাস করতে থাকে। প্রায় ৩ বছর আগে কাউসার আহমেদ খানের মনোহারি দোকানে কেনা কাটা করার সুবাদে ইশরাতের সাথে পরিচয় হয়। এক সময় ইশরাত দোকানের বকেয়া টাকা পরিশোধ করার জন্য কাউসারকে তার বাসায় ডেকে নিয়ে যায়। কাউসার সেখানে গেলে পরিকল্পিতভাবে ইশরাতের সাথে শারীরিক সম্পর্কে জড়ায় কাউসার। তাদের শারীরিক সর্ম্পকের বিষয়টি গোপনে ভিডিও ধারণ করে রাখে ইশরাত। পরবর্তীতে সেই ভিডিও দিয়ে কাউসারকে ব্ল্যাকমেইল করে মোটা অংকের অর্থ আদায় করতে থাকে। এভাবে আসামী কাউসার তার সঞ্চিত অর্থ শেষ করার পর জামালপুর শহরে তার বাড়ির জমি বিক্রিসহ মা ও স্ত্রীর স্বর্ণালংকার বিক্রির অর্থ ইশরাতের হাতে তুলে দেয়। এছাড়াও ইশরাত ব্ল্যাকমেইল করার জন্য বিভিন্ন লোকজনদেরকে টার্গেট করতো এবং কাউসারকে সেসব লোকদের ফাঁদে ফেলে বাসায় নিয়ে আসতে চাপ প্রয়োগ করতো। আসামী কাউসার এক পর্যায়ে এসব কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে ইশরাত ও কাউসারের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত আরও জানান, ঘটনার দিন ইশরাত আসামী কাউসারকে ফোন করে তার ভাড়া বাসায় ডেকে নিয়ে যায় এবং কাউসারের কাছে মোটা অংকের টাকা দাবী করলে তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ইশরাত আসামী কাউসারের স্ত্রীকে ফোন দিয়ে তাদের অবৈধ সর্ম্পকের কথা জানিয়ে দেয়। কাউসার তার সাথেই আছে এমন কথা বলে কাউসারকে তার স্ত্রীর সাথে ফোনে কথা বলিয়ে দিতে চাইলে কাউসার কথা বলতে না চাওয়ায় তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে কাউসার ইশরাতের গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এরপর পিবিআই তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় কাউসার আহমেদ খানকে গতকাল সোমবার বিকেল জামালপুর শহরের বাগেরহাটা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।