বরিশাল থেকে সবধরনের বাস চলাচল বন্ধ, যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ

এফএনএস (বরিশাল প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম
বরিশাল থেকে সবধরনের বাস চলাচল বন্ধ, যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ

বরিশাল বাস মালিক সমিতির বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও যাত্রী ওঠাতে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে ধর্মঘট শুরু করেছেন মাহিন্দ্রা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা। তাদের অবস্থানের কারণে বরিশাল থেকে অভ্যন্তরীন ও দুরপাল্লা রুটের সবধরনের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে সীমাহীন দুর্ভোগের মধ্যে পরেছেন এ রুটে চলাচলকারী যাত্রীরা। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের রহমতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন থ্রি-হুইলার মাহিন্দ্রা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা। এ সময় তারা মহাসড়কে চলাচলকারী লোকাল বাস আটকে দেন। বরিশাল থেকে ছেড়ে যাওয়া এবং ভুরঘাটা থেকে আসা বাসগুলো আটকে মীরগঞ্জ সড়কে পার্কিং করিয়ে দেওয়ার ফলে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পরতে হয়েছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে ওইদিন দুপুর দেড়টার দিকে বরিশাল নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার মহাসড়কে আড়াআড়ি করে বাসগুলো রাখায় দক্ষিণাঞ্চলের সাথে সবধরনের বাস ও পরিবহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। যেকারণে ব্যস্ততম ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচলকারী দুরপাল্লার যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগের মধ্যে পরতে হয়েছে।

থ্রি-হুইলার চালকরা জানিয়েছেন, গত ২৪ আগস্ট প্রশাসনের উদ্যোগে দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসার কথা থাকলেও তা শেষ পর্যন্ত হয়নি। এ কারণে তারা ধর্মঘটে যেতে বাধ্য হয়েছেন। মাহিন্দ্রা চালক আলী হোসেন, লিটন হাওলাদার, সাহাদাত, ফারুক ও মোস্তফা হাওলাদার জানান, নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে যাত্রী ওঠাতে গেলে বাস মালিক সমিতির কর্মচারীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের মারধর ও গালিগালাজ করেন। পাশাপাশি মাহিন্দ্রায় যাত্রী ওঠাতে বাঁধা দেওয়া হয়।

তারা আরও বলেন, সরকারকে নিয়মিত ট্যাক্স দিয়ে গাড়ি চালালেও তাদের সাথে এমন আচরণ করা হচ্ছে। এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তারা ধর্মঘট চালিয়ে যাবেন। অপরদিকে হঠাৎ করে বরিশালের সকল অভ্যন্তরীন রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পরেছেন যাত্রীরা। অনেক বাস থেকে যাত্রীদের মাঝপথে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা বিপাকে পরেছেন। এ সময় যাত্রীরা ক্ষিপ্ত হয়ে শুভেচ্ছা পরিবহনের চালককে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে তিনি (চালক) অচেতন হয়ে পরেন।

বরিশাল নথুল্লাবাদ এলাকায় অবস্থান নেওয়া বাস শ্রমিকরা জানিয়েছেন, মহাসড়কে চলাচলরত অবৈধ থ্রি-হুইলার চালক ও মালিকরা তাদের বাস চলাচল করতে বাঁধা প্রদানের প্রতিবাদে তারা মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে বাসগুলো নথুল্লাবাদ এলাকার মহাসড়কে আড়াআড়ি করে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছেন। এ রুটের যাত্রী জেসিকা আহম্মেদ বলেন, দুপুর থেকে সকল যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় তাদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মাহিন্দ্রা ও বাস শ্রমিকদের দ্বন্ধ তাদের নিজস্ব কার্যালয়ে বসে সমাধান করা যেতে পারতো। সেখানে সবধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে যাত্রীদের ভোগান্তিতে ফেলার কোনো মানে হয়না।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কথায় কথায় যানবাহন চলাচল বন্ধ করে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তিতে ফেলার নাম কোন আন্দোলন হতে পারেনা। এ ব্যাপারে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কঠোর থেকে কঠোরতম ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ওসি শাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমি দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছি। তবে এখন পর্যন্ত তাদের মধ্যে সমঝোতার কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছি। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, ২৪ আগস্ট সকালে বানারীপাড়া উপজেলার শিমুলতলা নামক এলাকার বাস কাউন্টারের সামনে থেকে মাহিন্দ্রায় যাত্রী ওঠানো হয়। এনিয়ে বাস শ্রমিকদের সাথে মাহিন্দ্রা চালকদের বিরোধের সৃষ্টি হয়। এনিয়ে সৃষ্ট বিরোধে মাহিন্দ্রা চালক ও শ্রমিকরা স্থানীয় প্রভাবখাটিয়ে ২০টি বাস আটক করে রাখে। পরে বাস শ্রমিকরা সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে প্রথমে বরিশাল থেকে অভ্যন্তরীণ ১৪টি রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে এর সঙ্গে দূরপাল্লার বাসও যুক্ত হয়।

তিনি আরও বলেন, মাহিন্দ্রা চালকরা বাস আটক করে রেখে প্রথমে ঝামেলায় জড়ান। প্রথমদিকে বাস শ্রমিকরা কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি। পরে পরিস্থিতির কারণে সোমবার দুপুরে তারা বাস চলাচল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন। তবে যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে এবং প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস পাওয়ার পর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বাস চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, ২৪ আগস্ট সকালের ঘটনায় মাহিন্দ্রা চালকরা মঙ্গলবার সকাল থেকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের এয়ারপোর্ট থানার রহমতপুর বাসষ্ট্যান্ডে জড়ো হয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে