ফুলবাড়ীতে আঁখ চাষে লাভবান কৌশিক রায় ও তার পরিবার

এফএনএস (মোস্তাফিজার রহমান মিলন; হিলি, দিনাজপুর) : | প্রকাশ: ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ০২:৫২ পিএম
ফুলবাড়ীতে আঁখ চাষে লাভবান কৌশিক রায় ও তার পরিবার

দিনাজপুরের অধিকাংশ উপজেলার উঁচু জমিতে আঁখ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। চলতি মৌসুমে জেলায় ১ হাজার ৬৭২ হেক্টর জমিতে আঁখ চাষ হয়েছে। তুলনামূলক কম খরচে ভালো লাভ হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে আঁখ চাষির সংখ্যা।

এরই ধারাবাহিকতায় দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে আঁখ চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন কৃষক কৌশিক রায়। নিজেদের ৩০ শতক জমিতে ইশ্বদি-৮ ও ইশ্বদি-১৬ জাতের আঁখ চাষ করেছেন তিনি। স্ত্রী ও ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে পাঁচ বছর ধরে আঁখ চাষ করছেন কৌশিক।

কৌশিক রায় জানান, আঁখ চাষে তার প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বর্তমানে বাজারে ভালো দাম থাকায় ওই জমি থেকে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকার আঁখ বিক্রির আশা করছেন তিনি। জমি থেকে আঁখ তুলে নিজের হাতে খুচরা বিক্রি করছেন। প্রতিটি আঁখ বিক্রি করছেন ৫০ টাকা দরে।

কৌশিক রায় বলেন, “আমার ৩০ শতক জমিতে আঁখ চাষ করতে প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বর্তমানে বাজার ভালো থাকায় এই জমি থেকে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকার আঁখ বিক্রি হবে বলে আশা করছি। কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহযোগিতায় ভালো ফলন পেয়েছি।”

তার ছেলে অলক রায় বলেন, “নিজের হাতে আঁখ বিক্রি করছি। প্রতি পিস ৫০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। বাজার ভালো থাকায় এবার লাভও ভালো হবে বলে আশা করছি।” কৌশিকের স্ত্রী সুমিতা রায় বলেন, “স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে পাঁচ বছর ধরে আঁখ চাষ করছি। আঁখ চাষ থেকে যে আয় হয়, তা দিয়েই আমাদের সংসার চলে।”

কৃষি বিভাগ বলছে, ফুলবাড়ীসহ দিনাজপুরের উঁচু জমি আঁখ চাষের জন্য বেশ উপযোগী। কৃষকদের আঁখ চাষে উৎসাহিত করতে নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। বাজারে ভালো দাম অব্যাহত থাকলে আগামীতে এ অঞ্চলে আঁখ চাষ আরও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কৃষি কর্মকর্তা সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, “এই অঞ্চলের উঁচু জায়গাগুলোতে আঁখ চাষ হয়ে থাকে। কৃষকদের আঁখ চাষে আগ্রহী করতে কৃষি বিভাগ সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় আগামীতে কৃষকরা আরও বেশি করে আঁখ চাষ করবেন বলে আমরা আশা করছি।” স্বল্প খরচে ভালো ফলন এবং বাজারে সন্তোষজনক দাম-সব মিলিয়ে আঁখ চাষে লাভের সম্ভাবনা দেখছেন ফুলবাড়ীর কৃষকরা। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে এ অঞ্চলে আঁখ চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে