হাঁস পালনেই ঘুরেছে আতাউরের ভাগ্যের চাকা

এফএনএস (এম. রইচ উদ্দিন; পোরশা, নওগাঁ) : | প্রকাশ: ২২ আগস্ট, ২০২৬, ০২:৩৫ পিএম
হাঁস পালনেই ঘুরেছে আতাউরের ভাগ্যের চাকা

আতাউর রহমান(৫৫)। উপজেলার নিতপুর ইউনিয়নের হবির মোড় এলাকার রুহুল আমিনের ছেলে। হাঁস পালন করেই ঘুরেছে যার ভাগ্যের চাকা। প্রথম অবস্থায় অন্য কোন কাজ করার পরিকল্পনা থাকলেও পরিবারের পরামর্শে শুরু করেন হাঁস পালন। দরিদ্র পরিবারের ছেলে হওয়ায় হাঁস পালনে ছিলনা কোন পুঁজি। আর এ কারনেই প্রায় ৭ বছর আগে এনজিও থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে শুরু হয়েছিল তার জীবন পরিবর্তনের লড়াই। অবশেষে পরিশ্রম, প্রজ্ঞা আর অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে আজ সে সফল উদ্যোক্তা। উম্মুক্ত জলাশয়, খাল-বিল ও নদী এলাকায় হাঁস পালন করে আতাউর গড়ে তুলেছেন নিজস্ব অবস্থান, অর্জন করেছেন আর্থিক স্বচ্ছলতা। শনিবার সকালে পূনর্ভবা নদিতে হাঁস নিয়ে তার ভ্রাম্যমান খামারে অবস্থানের সময় কথা হয় আতাউরের সাথে, সে জানায়, বর্তমান তার হাঁস রয়েছে প্রায় ৮৫০টি। যার মূল্য প্রায় ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। প্রতিদিন হাঁসের দেওয়া  ডিম বিক্রি থেকে আয় হয় প্রায় ৭ হাজার টাকা। হাঁসের খাবারসহ অন্যান্য খরচ হয় ৪ হাজার টাকা। আর প্রতিদিন খরচ বাদে তার আয় হয় ৩ হাজার টাকা। আর প্রতি মাসে খরচ বাদে তার আয় হয় প্রায় ৯০ হাজার টাকা। তার কাছে জানতে চাইলে সে জানায়, শুরুটা তার সহজ ছিল না। কোনো পুঁজি না থাকায় বিভিন্ন নদী, খাল, বিল ও জলাশয়ে হাঁসের পাল নিয়ে ঘুরে ঘুরে ভ্রাম্যমান খামার শুরু করেন। প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে হাঁস পালনের এই পদ্ধতিতে তার খরচ যেমন কমেছে, এতে ডিমের মানও বজায় রেখেছে। সে জানায়, হাঁস চাষের এই আয় দিয়েই বদলে গেছে তার পরিবারের জীবনযাত্রা। সে হাঁস পালন করে নিজ উপার্জনে কিনেছেন দুই বিঘা জমি, নির্মাণ করেছেন ইট দিয়ে তৈরী নতুন বিল্ডিং বাড়ি। শুধু তাই নয়, পরিবারের ছেলে-মেয়ে, স্ত্রী সহ ৫ জনের ভরন পোষন ও সন্তানদের পড়ালেখা করে শিক্ষিত করার জন্য ব্যয় করছেন। তবে তার তিন ছেলের মধ্যে বড় ছেলে পড়াশোনা শেষ করে একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করছেন এবং মেজো ছেলে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করে তাকে হাঁস পালনে সহযোগিতা করছেন। আর ছোট ছেলে সদ্য এসএসসি পরীক্ষা পাস করে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান। আতাউর রহমান বলেন, সঠিক নিয়ম মেনে পরিশ্রম করলে হাঁস পালনে ক্ষতি হওয়ার সুযোগ কম। তবে এনজিওর দেওয়া সেই ঋনের ৫০ হাজার টাকাই আজ তাকে এ অবস্থায় আসতে সহায়তা ও স্বাবলম্বী করেছে বলে জানান। তবে এলাকার অনেক বেকার যুবকের কাছে আতাউর রহমান এক অনুপ্রেরণার নাম। সঠিক পরিকল্পনা আর কঠোর পরিশ্রম করলে যে কেউ শূন্য থেকে সফলতার শিখরে পৌঁছতে পারে, তা নিজের পরিশ্রমে প্রমাণ করেছেন আতাউর রহমান।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে