ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে হবে

এফএনএস | প্রকাশ: ২১ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম
ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে হবে

জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম মহানগরীগুলোর মধ্যে ঢাকা দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এ প্রতিবেদনে বিশ্বের বৃহত্তম ১০টি মেগাসিটির মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা ৪ কোটি ১৯ লাখ জনসংখ্যা নিয়ে প্রথম এবং ৩ কোটি ৬৬ লাখ জনসংখ্যা নিয়ে ঢাকা বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থান লাভ করেছে। দীর্ঘদিন ধরেই ঢাকা শহর জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের ক্রমবর্ধমান মেগাসিটির তালিকায় অবস্থান করছে। সেই সাথে ঢাকা শহরের বাসযোগ্যতা ক্রমেই নিম্নগামী হওয়ার তথ্যও ইআইইউর গ্লোবাল লিভেবেলিটি ইনডেক্সে প্রতিবছরই আসছে। ইআইইউ লিভেবেলিটি রিপোর্টে ঢাকা শহরের অবস্থান বিশ্বের ১৭৩টি শহরের মধ্যে ১৭১তম স্থান লাভ করে। অর্থাৎ বিশ্বে বসবাসের যোগ্যতার মানদন্ডে ঢাকা শহর তৃতীয় সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ সিরিয়া ও লিবিয়ার রাজধানীর আগে ঢাকার অবস্থান। শহর নিয়ে এটি কোনো নতুন অনুসঙ্গ নয়। গত দেড় দশক ধরে ঢাকা শহরের পরিবেশ দূষণ, নাগরিক বিড়ম্বনা, নিরাপত্তা ও পরিবেশগত ঝুঁকি প্রায়শ বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে এবং বসবাসযোগ্য শহরগুলোর তালিকায় সর্বনিম্ন দু’তিনটি শহরের মধ্যে স্থান পাচ্ছে। দেড় দশকের আওয়ামী ফ্যাসিস্ট রেজিম উন্নয়নের জিগির তুলে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটপাট ও পাচারের মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করার সাথে সাথে ঢাকা শহরকেও বসবাসের অযোগ্য করে তুলেছিল। ফ্লাইওভার, এক্সপ্রেসওয়ে, মেট্রোরেলের উন্নয়নে বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও শহরের যানজট নিরসন, পানিবদ্ধতা, গণপরিবহনের উন্নয়ন ও বিশৃঙ্খলা নিরসনের জন্য তেমন কিছুই করেনি। একইভাবে ঢাকা শহরের চারপাশের নদনদীগুলোর উপর রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের দখলবাজি, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও নাগরিক দূষণ রোধ এবং ঢাকার আভ্যন্তরীণ খাল ও জলাভূমিগুলো দখলবাজদের কাছ থেকে উদ্ধার করে নগরীর পানিবদ্ধতা নিরসন, পরিবেশ উন্নয়ন ও সৌন্দর্য বর্ধনে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নিতে পারেনি। শহরের চারপাশের নদীদখল, দূষণ, খাল ও জলাভূমি পুনরুদ্ধারের মতো জরুরি উদ্যোগগুলোর দিকে নজর না থাকায় ঢাকার বাসযোগ্যতার কোনো উন্নয়ন হয়নি। সাড়ে তিন কোটির বেশি মানুষের মেগাসিটিকে বাসযোগ্য করে তোলার চ্যালেঞ্জ গ্রহণে ব্যর্থতার সুযোগ নেই। দেশবাসীর প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার এ বিষয়ে তাদের উদ্যোগ শুরু করবে এবং সে উদ্যোগ বাস্তবায়নে তাদের ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।