টানা কয়েক দিনের বিক্ষোভ, উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পর কাজে ফিরতে শুরু করেছেন গাজীপুরের পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, ব্ল্যাকলিস্টিং বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে কয়েক দিনের শ্রমিক অসন্তোষের পর সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। রোববার অধিকাংশ কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চলেছে। তবে কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কারখানার ভেতরে অবস্থান করায় ২০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ছুটি ঘোষণার পর কয়েকটি কারখানার শ্রমিক আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন। পরে পুলিশ তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।
দুপুর ১২টার দিকে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সাভার ও আশুলিয়ার অধিকাংশ কারখানায় শ্রমিকেরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করছেন। কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে ভেতরে অবস্থান করছিলেন। এ কারণে ২০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে চারটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে অবস্থান করছেন। একটি স্থানে কিছু শ্রমিক সড়কে অবস্থান নিলে তাদের বুঝিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং কারখানাগুলো সচল রেখে উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে ১১ প্লাটুন বিজিবিসহ পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানিয়েছে সাভার উপজেলা প্রশাসন।
দুপুর পৌনে ১টার দিকে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বেশ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিয়েছেন। কিছু কারখানার শ্রমিকেরা কাজ না করে ভেতরে বসে থাকায় কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করেছে। কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে সড়কে অবস্থান নেন। তবে সার্বিক পরিস্থিতি আপাতত ভালো। আগামী ১০ তারিখের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের বিষয়টিতে এখন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।’
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সাভার শিল্পাঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। শ্রমিকেরা কাজে ফিরেছেন। তবে বেতন পরিশোধের ক্ষেত্রে আগামী ১০ তারিখ পর্যন্ত সময়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি প্রশাসন সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। কারখানার মালিকদের নির্ধারিত সময়ে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
ইউএনও আরও বলেন, ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ১১ প্লাটুন বিজিবি, ৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।’