ভোরের আলো সাহিত্য আসর ও করিমগঞ্জ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ কমিটির যৌথ উদ্যোগে সকাল ৯টা হতে সকাল ১১টা পর্যন্ত "সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক" বিষয়ক এক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে দু'সংগঠনের দু'পর্বে সভাপতিত্ব করেন যথাক্রমে সাংবাদিক শেখ আবুল মুনসুর লুনু ও কবি মোতাহের হোসেন। ০৬ নভেম্বর (শুক্রবার) জঙ্গলবাড়িরস্থ ইসলাম পাড়ার শেখ বাড়িতে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন অধ্যাপক মো: আজিজুর রহমান। দ্বিতীয় পর্বে প্রধান অতিথি করিমগঞ্জ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক মো: শাহজাহান শাজু।
প্রথম পর্বে করিমগঞ্জ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ কমিটি ভোরের আলো সাহিত্য আসরের প্রয়াতদের স্মরণে ১মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। একই সাথে কামনা করা হয় পরপারে চলে যাওয়া সদস্যদের আত্মার মুক্তি।
১ম পর্বের সভাপতি শেখ আবুল মুনসুুর লুনু শুরুতে ২০০৪ সালে অনুষ্ঠিত করিমগঞ্জের ইতিহাস সম্মেলনের স্মৃতিচারণ করে বলেন: আমড়া আজ এ সংগঠনকে হারাতে বসেছি। তাই পরপারে চলে যাবার আগে আমাদেরকে কিছু করে যেতে হবে এবং কইঐসকের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।
প্রধান অতিথি আজিজুর রহমান বলেনঃ "রেজা ভাই আমার সাথে একটি সংগঠনের অস্থিত্ব প্রকাশ করার কথা বলেন ঠিক ৯০দশকে।তারি ফলোশ্রুতিতে আজকের করিমগঞ্জ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ কমিটির চলতে থাকা এ সংগঠন। এ পর্বে উপস্থিত বিভিন্ন জনরাও নানা মন্তব্যে ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ কমিটিকে এগিয়ে নেবার পরামর্শ প্রদান করেন।
২য় পর্বের ভোরের আলো সাহিত্য আসরের সভাপতি কবি ও ব্যাংকার মো: মোতাহের হোসেন বক্তব্যের শুরুতে সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং ভোরের আলোকে এগিয়ে নেবার লক্ষ্যে কাজ করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে আ: শহীদ বয়াতীকে সমাজের আইকন হিসেবে বর্ণনা করেন।
২য় পর্বের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি করিমগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক বাংলাবিভাগের প্রধান অধ্যাপক শাহজাহান শাজু বলেনঃ আমাদের প্রজন্মকে সংরক্ষণের ধারা শিখিয়ে যেতে হবে এবং নতুন প্রজন্মদের কাছে তা রেখে যেতে হবে।" প্রধান অতিথি আরও বলেনঃ "আজকের এই আয়োজনই হলো ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ প্রক্রিয়ার প্রতিবিম্ব। " তিনি অতীত স্মৃতিচারন করে বলেন: কইঐসকের ঐ বড় কাজটিই ছিল ড. আশরাফের মতে লোকজ বিজ্ঞানী,তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ের তথ্য তুলে আনতে আতাউস সামাদের মতো প্রখ্যাত সাংবাদিক, ইলিয়াস কাঞ্চনের মতো জনপ্রিয়তা পাওয়া প্রখ্যাত চিত্রনায়ক, ক্র্যাক প্লাটুনে ভুমিকা রাখা তথা পাকহাদারদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে ৫টি ব্রীজ উড়িয়ে দেয়ার মতো মুক্তিযুদ্ধের লড়াকু সৈনিকসহ দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে সাধারণ মানুষের সাথে সংযোগ ও সামন্বয় সাধন করতে পেরেছিল আজকের এই করিমগঞ্জ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ কমিটি।"
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহিনন্দ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ পরিষদ ও বীর ঈশা খা স্মৃতি পাঠাগার এর সভাপতি মোঃ আমিনুল হক সাদী (আমিন সাদী), " শিশুবিষয়ের কইঐসক লেখক জঙ্গলবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মীর আশরাফ উদ্দিন,কিশোরগঞ্জের আঞ্চলিক গানের রচয়িতা মোঃ শহিদ বয়াতী, বিশিষ্ট আলোচক,কবি,ছড়াকার ও শিল্পী সাদেকুজ্জামান সেহাগ, কিঐসকের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক কবি ও সাহিত্যিক মোঃ মাসুম, ভোরের সময় পত্রিকার প্রতিনিধি মো: ফেরদৈস মিয়া, সমাজচিন্তক মোঃ আপ্তারুল ফারুক রোকন, মো: হরকুল ইসলাম, মোছা: সাদিয়া জাহান রেজা, খুদে শিল্পী ফাল্গুনী রানি সরকার ও মো: সফিকুল ইসলাম প্রমুখ।