প্রবাসীদের সুরক্ষায় ব্যর্থতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়

এফএনএস | প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম
প্রবাসীদের সুরক্ষায় ব্যর্থতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়

সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক বহুমাত্রিক। বিশেষ করে ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সৌদি আরব বাংলাদেশিদের জীবনে অঙ্গাঙ্গিভাবে মিশে আছে। সরকারি তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আয় করে সৌদি আরব থেকে। পরিমাণ ৫.৮৫ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৩৭.৭% বেশি এবং বাংলাদেশের মোট রেমিট্যান্স আয়ের ১৬.৪%। সৌদি প্রবাসে বাংলাদেশি শ্রমিকরা কাজের সুযোগ পাচ্ছেন বলেই দেশের মাটিতে কোটি পরিবার সচ্ছলতা নিয়ে ভালো আছে। জ্বালানি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রেও সৌদি আরবের ওপর আমরা নির্ভরশীল। অন্যদিকে, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে ৭৯,১০০ জন নর-নারী হজ পালন করেছেন বলে পত্রিকায় তথ্য মিলেছে। আমাদের জন্য ধর্মচর্চা হলেও সৌদি অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে এটি বিশেষ জোগান, যা পাঁচ থেকে ছয় হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ। দেশ ও জনগণের স্বার্থে তাই সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক খুবই জরুরি। তবে সমপ্রতি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হওয়া দুই বাংলাদেশি ছেলে ও মেয়ের বিষটি আমাদের সকলকে ব্যথিত করেছে। পবিত্র মক্কা নগরীর একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগে গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরব সরকারের পক্ষ থেকে দুই বাংলাদেশী নাগরিক-নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এই মর্মান্তিক খবরটি প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। বিশেষ করে ঘটনার চার দিন পর জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট থেকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক গোপন চিঠিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসার পর প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কনস্যুলেটের চিঠিতে জানা গেছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ এবং সুইটি আক্তারের বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অভিযোগ ছিল। তবে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, বিচারকার্য চলমান থাকা কিংবা দণ্ড কার্যকরের আগে বা পরে-কোনো সময়ই সৌদি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে বা অনানুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে কিছুই জানায়নি। এমনকি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকেও দীর্ঘ তিন বছর ধরে চলা বিচার প্রক্রিয়ার কোনো তথ্য কনস্যুলেটকে জানানো হয়নি। ঘটনার সঠিক ও বিস্তারিত তথ্য জানতে ইতোমধ্যে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় একটি ‘নোট ভারবাল’ বা কূটনৈতিক চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ কনস্যুলেট। এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের নাগরিকদের বিপদে পাশে দাঁড়ানো এবং আইনি লড়াইয়ের ক্ষেত্রে কূটনৈতিক তৎপরতা অত্যন্ত জরুরি। অতীতে শ্রীলঙ্কার এক নাগরিককে সৌদি আরবে মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও, লঙ্কান সরকারের জোরালো দেনদরবার ও আইনি লড়াইয়ের ফলে সেই সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবনে নামানো সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কেন এমন উদ্যোগ দেখা গেল না-তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। বিদেশে আটক বা বিচারাধীন বাংলাদেশিদের জন্য একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে দ্রুত আইনজীবী নিয়োগ, বাংলা ভাষায় সহায়তা ও মৃত্যুদণ্ডের মামলায় আগাম কূটনৈতিক উদ্যোগের সংস্থান থাকবে।