শৈশবে শরীর নিয়ে কটূক্তি, অভিনয়ে প্রবেশের সময় নানা বাধা, ‘টাইটানিক’-এর পর রাতারাতি পাওয়া বিশ্বখ্যাতির চাপ, ব্যক্তিজীবনের ভাঙাগড়া, অস্কার জয়, টেলিভিশনে সাফল্য, প্রযোজক ও পরিচালকের নতুন পরিচয়, সব মিলিয়ে কেট উইন্সলেটের পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। সেই দীর্ঘ পথ পেরিয়ে ৫ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার ৫১ বছরে পা দিলেন অস্কারজয়ী এই ব্রিটিশ অভিনেত্রী।
১৯৭৫ সালের ৫ অক্টোবর ইংল্যান্ডের রিডিংয়ে জন্ম কেট উইন্সলেটের। তিন দশকের বেশি সময় ধরে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনে কাজ করছেন তিনি। বয়স বাড়াকে আড়াল করার বদলে নিজের জীবনের অভিজ্ঞতার অংশ হিসেবে গ্রহণ করেছেন কেট। ৫০তম জন্মদিনের সময়ও তিনি বলেছিলেন, নারীরা বয়স বাড়ার সঙ্গে আরও সুন্দর হয়ে ওঠেন।
অভিনয়ের পরিবারে জন্ম, পথটা সহজ ছিল না
কেট এমন একটি পরিবারে বেড়ে উঠেছেন, যেখানে অভিনয় ছিল পারিবারিক ঐতিহ্যের অংশ। তাঁর বাবা রজার উইন্সলেট ও মা স্যালি উইন্সলেট অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরিবারের অন্য সদস্যদেরও থিয়েটারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। রিডিং রিপার্টরি থিয়েটারের সঙ্গেও তাঁর পরিবারের যোগ ছিল।
মাত্র পাঁচ বছর বয়সে স্কুলের মঞ্চে অভিনয় করেন কেট। ১১ বছর বয়সে ভর্তি হন রেডরুফস থিয়েটার স্কুলে। পরে বিজ্ঞাপন, মঞ্চ ও টেলিভিশনে ছোটখাটো কাজ শুরু করেন।
তবে অভিনয়ের স্বপ্নের পাশাপাশি শৈশবেই তাঁকে মোকাবিলা করতে হয়েছে শরীর নিয়ে বিদ্রূপের। স্কুলে সহপাঠীরা তাঁকে ‘ব্লাবার’ বলে ডাকত। পরবর্তী সময়ে এক নাট্যশিক্ষকও শরীরের গড়ন নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন বলে জানিয়েছেন কেট।
১৫ থেকে ১৯ বছর বয়স পর্যন্ত মাঝেমধ্যে ডায়েট করতেন তিনি। একপর্যায়ে প্রায় না খেয়ে থাকার মতো অবস্থাও তৈরি হয়েছিল। পরে এই সময়কে নিজের জীবনের অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর একটি অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করেন কেট।
স্যান্ডউইচের দোকান থেকে ‘হেভেনলি ক্রিয়েচার্স’
১৯৯৪ সালে পিটার জ্যাকসনের ‘হেভেনলি ক্রিয়েচার্স’ ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পান কেট। তখন তিনি একটি স্যান্ডউইচের দোকানে কাজ করছিলেন। ছবিতে অভিনয়ের খবর ফোনে পাওয়ার পর স্যান্ডউইচ ফেলে বাসে করে বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যদের সেই সুখবর জানান।
পরের বছর ‘সেন্স অ্যান্ড সেন্সিবিলিটি’ ছবিতে এমা থম্পসন ও হিউ গ্রান্টের সঙ্গে অভিনয় করেন তিনি। মাত্র ২০ বছর বয়সে ছবিটির জন্য অস্কারে মনোনয়ন পান কেট। শুরুতেই বোঝা যায়, তিনি শুধু তারকা হতে নয়, অভিনেত্রী হিসেবে নিজের জায়গা তৈরি করতেই এসেছেন।
‘টাইটানিক’ বদলে দিল জীবন
১৯৯৭ সালে জেমস ক্যামেরনের ‘টাইটানিক’ কেটের জীবন পুরোপুরি বদলে দেয়। রোজ ডিউইট বুকেটার চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। তাঁর বিপরীতে ছিলেন লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর জ্যাক।
ছবিটি বিশ্বজুড়ে বিপুল সাফল্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কেটও হয়ে ওঠেন আন্তর্জাতিক তারকা। কিন্তু এই খ্যাতি তাঁর জন্য শুধু আনন্দ বয়ে আনেনি। বেড়ে যায় গণমাধ্যমের নজরদারি ও ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ।
বিবিসি রেডিও ৪-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কেট জানিয়েছেন, ‘টাইটানিক’ মুক্তির পর পাপারাজ্জিরা তাঁকে অনুসরণ করতেন। তাঁর ফোনে আড়ি পাতার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং এমনকি তাঁর আবর্জনার ঝুড়িও খোঁজা হতো বলে জানান তিনি। স্থানীয় দোকানদারদের কাছ থেকেও তাঁর কেনাকাটা সম্পর্কে তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করা হতো।
সেই সময়কে কেট ‘ভয়ংকর’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর ভাষায়, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে একা থাকা এবং ঘুমাতে যাওয়াও ভয়ের হয়ে উঠেছিল।
‘টাইটানিক’-এর শুটিংয়ের সময়ও নিজের শরীর ও মানসিক অবস্থার দিক থেকে ভালো জায়গায় ছিলেন না বলে পরে জানান কেট। কৈশোরের শরীর নিয়ে অনিরাপত্তা এবং অতিরিক্ত ডায়েটিংয়ের অভ্যাস তখনও তাঁকে প্রভাবিত করছিল।
সেই কঠিন সময়ে বন্ধুদের সমর্থনও পেয়েছেন তিনি। পাশের বাড়ির এক দম্পতি নিয়মিত দুই বাড়ির মাঝের দেয়ালের ওপর দিয়ে তাঁর জন্য গরম পাস্তা ও পানীয় রেখে যেতেন।
‘টাইটানিক’ মুক্তির সময় আরেকটি ব্যক্তিগত আঘাতও আসে। তাঁর সাবেক প্রেমিক স্টিফেন ট্রেড্রে ক্যানসারে মারা যান। তাঁর শেষকৃত্যে যোগ দেওয়ার কারণে ছবিটির লস অ্যাঞ্জেলেস প্রিমিয়ারেও যাননি কেট।
‘রোজ’ চরিত্রে আটকে থাকেননি
‘টাইটানিক’-এর পর কেট চাইলে একই ধরনের বাণিজ্যিক ছবিতে নিয়মিত অভিনয় করতে পারতেন। কিন্তু তিনি সেই পথে হাঁটেননি।
‘হোলি স্মোক!’, ‘কুইলস’, ‘ইটারনাল সানশাইন অব দ্য স্পটলেস মাইন্ড’, ‘ফাইন্ডিং নেভারল্যান্ড’ ও ‘লিটল চিলড্রেন’-এর মতো ভিন্নধর্মী ছবিতে অভিনয় করে নিজেকে বারবার নতুনভাবে তুলে ধরেছেন তিনি।
২০০৮ সালে ‘রেভোলিউশনারি রোড’-এ আবারও লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর সঙ্গে অভিনয় করেন। এরপর আসে ‘দ্য রিডার’।
অস্কার এল ‘দ্য রিডার’ দিয়ে
‘দ্য রিডার’-এ হানা শ্মিটজ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ২০০৯ সালে সেরা অভিনেত্রীর অস্কার জেতেন কেট উইন্সলেট। এটি ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম অস্কার।
এর আগে ‘সেন্স অ্যান্ড সেন্সিবিলিটি’, ‘টাইটানিক’, ‘আইরিস’, ‘ইটারনাল সানশাইন অব দ্য স্পটলেস মাইন্ড’ এবং ‘লিটল চিলড্রেন’-এর জন্যও অস্কারে মনোনীত হয়েছিলেন তিনি।
২০০৯ সালে ‘দ্য রিডার’ ও ‘রেভোলিউশনারি রোড’ ছবির জন্য গোল্ডেন গ্লোবও জেতেন কেট।
তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলোর একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো, সেগুলো সাধারণত নিখুঁত নয়। চরিত্রগুলো ভুল করে, ভেঙে পড়ে, ভালোবাসে, ঈর্ষা করে, অপরাধবোধে ভোগে। সেই কারণেই পর্দায় তাদের আরও বাস্তব মনে হয়।
টেলিভিশনেও বড় সাফল্য
কেট উইন্সলেটের সাফল্য শুধু চলচ্চিত্রে সীমাবদ্ধ নয়। ‘মিলড্রেড পিয়ার্স’-এর জন্য ২০১১ সালে এমি জেতেন তিনি। এরপর ২০২১ সালে ‘মেয়ার অব ইস্টটাউন’-এ ছোট শহরের গোয়েন্দা মেয়ার শিহান চরিত্রে অভিনয় করে আবারও এমি জয় করেন। Television Academy-এর তথ্য অনুযায়ী, এই চরিত্রের জন্য তিনি লিড অভিনেত্রীর এমি পেয়েছিলেন।
‘মেয়ার অব ইস্টটাউন’-এর মেয়ার ছিল ক্লান্ত, জটিল এবং ব্যক্তিগত সমস্যায় জর্জরিত এক নারী। হলিউডের প্রচলিত গ্ল্যামারাস নারী গোয়েন্দা চরিত্রের তুলনায় এটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
এরপর ২০২৩ সালে ‘আই অ্যাম রুথ’-এ অভিনয়ের জন্য BAFTA Television Awards-এ সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পান কেট। পুরস্কার কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওই বছর ‘I Am Ruth’-এর জন্য তিনি Leading Actress বিভাগে জয়ী হন।
এই নাটকে তাঁর মেয়ে মিয়া থ্রিপলটনও অভিনয় করেন।
‘লি’তে অভিনেত্রীর পাশাপাশি প্রযোজক
২০২৪ সালের ‘লি’ ছবিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফটোসাংবাদিক লি মিলারের চরিত্রে অভিনয় করেন কেট। একই সঙ্গে ছবিটির প্রযোজনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি।
অভিনয়ের বাইরে গল্প নির্বাচন ও নির্মাণের ক্ষেত্রে সক্রিয় হওয়ার ইচ্ছাও ধীরে ধীরে তাঁর ক্যারিয়ারে স্পষ্ট হয়েছে। নিজের পছন্দের গল্প নিয়ে কাজ করার সেই আগ্রহ তাঁকে নতুন ভূমিকায় নিয়ে গেছে।
৫০ পেরিয়ে পরিচালকের চেয়ারে
কেট উইন্সলেটের ক্যারিয়ারের সাম্প্রতিক বড় পরিবর্তন পরিচালনায় আসা। ‘গুডবাই জুন’ দিয়ে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন তিনি। একই ছবিতে পরিচালক, প্রযোজক ও অভিনেতা, তিন ভূমিকাতেই কাজ করেছেন।
ছবিতে কেটের সঙ্গে অভিনয় করেছেন হেলেন মিরেন, টনি কোলেট, আন্দ্রেয়া রাইজবরো, জনি ফ্লিন ও টিমোথি স্পল। ছবিটির চিত্রনাট্য লিখেছেন কেটের ছেলে জো অ্যান্ডার্স।
অর্থাৎ ৫০ পেরিয়ে তাঁর ক্যারিয়ারে নতুন একটি পরিচয় যোগ হয়েছে। তিনি এখন শুধু অভিনেত্রী নন, পরিচালক ও প্রযোজক হিসেবেও কাজ করছেন।
বয়সকে ভয় পান না কেট
বয়স বাড়ার সঙ্গে চেহারা ও তারুণ্য ধরে রাখার চাপ নিয়ে হলিউডে দীর্ঘদিন আলোচনা রয়েছে। কেট উইন্সলেট বরং বয়সকে নিজের জীবনের স্বাভাবিক অংশ হিসেবেই দেখেন।
২০২৫ সালে ৫০তম জন্মদিন উপলক্ষে ‘ভোগ ইউকে’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের বলিরেখা ও বয়সের ছাপ নিয়ে ইতিবাচক মনোভাবের কথা বলেন। তাঁর মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে নারীরা আরও সুন্দর ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠতে পারেন।
২০২২ সালে BBC-এর ‘Woman’s Hour’ অনুষ্ঠানেও বয়স নিয়ে একই ধরনের অবস্থান জানিয়েছিলেন কেট। তিনি বলেছিলেন, ৪০ পেরোনো মানেই পতনের শুরু নয়। বরং এই বয়সে নারীরা আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠেন এবং অন্যেরা কী ভাবছে, তা নিয়ে কম ভয় পান।
নারীদের উৎসাহিত করতেও নিজের অবস্থান ব্যবহার করেছেন কেট। তাঁর বক্তব্য, গত কয়েক বছরে বিভিন্ন বিষয়ে নারীদের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। অনেকে তাঁকে বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, তাঁর কথাগুলো তাঁদের ভালো লেগেছে। মানুষের সঙ্গে এই যোগাযোগ তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
নগ্ন দৃশ্য নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট
‘টাইটানিক’-এর বিখ্যাত নগ্ন পোর্ট্রেট দৃশ্য থেকে শুরু করে ‘হোলি স্মোক!’-এর মতো ছবিতে খোলামেলা অভিনয়ের কারণে ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছেন কেট।
তবে এসব দৃশ্যকে নিজের অভিনয় পরিচয়ের একমাত্র অংশ হতে দেননি তিনি। বয়স বাড়ার সঙ্গে নগ্ন দৃশ্যে অভিনয়ের ক্ষেত্রে তাঁর স্বাচ্ছন্দ্যও বদলেছে। ভবিষ্যতে এমন দৃশ্যের সংখ্যা কমতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
তাঁর অবস্থান স্পষ্ট, নারীর শরীরকে শুধু সৌন্দর্যের মাপকাঠিতে বিচার করা উচিত নয়। নিজের শরীর এবং পর্দায় সেটিকে কীভাবে উপস্থাপন করা হবে, সেই সিদ্ধান্তের অধিকারও অভিনেত্রীর থাকা উচিত।
তিন বিয়ে, তিন সন্তান
কেট উইন্সলেটের ব্যক্তিজীবনও আলোচিত। ১৯৯৮ সালে সহকারী পরিচালক জিম থ্রিপলটনকে বিয়ে করেন তিনি। তাঁদের মেয়ে মিয়া থ্রিপলটনের জন্ম ২০০০ সালে। ২০০১ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়।
২০০৩ সালে পরিচালক স্যাম মেন্ডেসকে বিয়ে করেন কেট। একই বছর তাঁদের ছেলে জো অ্যান্ডার্সের জন্ম হয়। ২০১০ সালে তাঁদের সম্পর্কের ইতি ঘটে এবং পরের বছর বিবাহবিচ্ছেদ হয়।
২০১২ সালে এডওয়ার্ড অ্যাবেল স্মিথকে বিয়ে করেন কেট। একসময় তিনি ‘নেড রকনরোল’ নামে পরিচিত ছিলেন। তাঁদের ছেলে বেয়ার ব্লেজের জন্ম ২০১৩ সালে।
তিন সন্তানই কেটের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কাজ বাছাইয়ের সময় সন্তানদের কথাও বিবেচনায় রাখেন তিনি। মেয়ে মিয়াও এখন অভিনয় করছেন। ফলে অভিনয়ের যে জগৎ থেকে কেটের যাত্রা শুরু হয়েছিল, পরবর্তী প্রজন্মেও সেই ধারাটি এগিয়ে চলছে।
কত সম্পদের মালিক কেট?
‘সেলিব্রিটি নেট ওয়ার্থ’-এর হিসাব অনুযায়ী, কেট উইন্সলেটের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এটি প্রায় ৭৯০ কোটি টাকার কাছাকাছি। তবে এটি আনুমানিক হিসাব, কারণ তাঁর সম্পদের কোনো সরকারি নির্দিষ্ট হিসাব প্রকাশিত হয়নি।
‘টাইটানিক’, ‘দ্য রিডার’, ‘রেভোলিউশনারি রোড’, ‘ফাইন্ডিং নেভারল্যান্ড’ ও ‘স্টিভ জবস’-এর মতো চলচ্চিত্রের পারিশ্রমিকের পাশাপাশি টেলিভিশনের কাজ, প্রযোজনা এবং সম্পত্তি থেকে তাঁর সম্পদ তৈরি হয়েছে বলে ওই হিসাবগুলোতে উল্লেখ করা হয়।
৫১ বছরে এসে কেট উইন্সলেটের গল্প তাই শুধু অস্কারজয়ী এক অভিনেত্রীর সাফল্যের গল্প নয়। শৈশবের বুলিং থেকে বিশ্বখ্যাতি, খ্যাতির চাপ থেকে নিজের অবস্থান তৈরি, পর্দার অভিনেত্রী থেকে প্রযোজক ও পরিচালক, প্রতিটি পর্যায়েই তিনি নিজের পথ নিজেই বেছে নিয়েছেন। বয়সের সঙ্গে থেমে যাওয়ার বদলে নতুন কিছু শুরু করার সেই মানসিকতাই হয়তো তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় পরিচয়।