ভিন্নরূপে দেখা গেলো ‘ইস্ট অব ইডেন’-এর ক্যাথিকে

এফএনএস বিনোদন | প্রকাশ: ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:০৮ পিএম
ভিন্নরূপে দেখা গেলো ‘ইস্ট অব ইডেন’-এর ক্যাথিকে

জন স্টেইনবেকের কালজয়ী উপন্যাস ‘ইস্ট অব ইডেন’ প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৫২ সালে। উপন্যাসটির অন্যতম আলোচিত চরিত্র ক্যাথি অ্যামসকে এতদিন সবাই নিষ্ঠুরতা ও অশুভের প্রতীক হিসেবেই জেনে এসেছে। তবে নেটফ্লিক্সের নতুন সাত পর্বের সিরিজ এই পরিচিত চরিত্রটিকে অন্যভাবে দর্শকের সামনে এনেছে। নির্মাতা জোয়ে কাজান ক্যাথির আচরণের পেছনের অভিজ্ঞতা, ভয় ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে সামনে এনেছেন, আর ফ্লোরেন্স পিউয়ের অভিনয় সেই দৃষ্টিভঙ্গিকে দিয়েছে বাড়তি গভীরতা। উপন্যাসে ক্যাথির বিরুদ্ধে বাবা-মাকে হত্যা, স্বামীকে ছেড়ে যাওয়া এবং পতিতালয় পরিচালনার মতো নানা ভয়াবহ অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনাগুলো তাকে নিছক খলনায়ক হিসেবে তুলে ধরে। কিন্তু নতুন সিরিজটি প্রশ্ন তোলে, তার এই সিদ্ধান্তের পেছনে কি কেবল অশুভ প্রবৃত্তিই কাজ করেছিল? উনিশ শতকের সমাজে নারীর সীমিত স্বাধীনতা এবং ছোটবেলায় নির্যাতনের শিকার হওয়ার মতো বিষয়গুলো তার জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। বিশেষ করে শৈশবের একটি ঘটনার পর তার মানুষের প্রতি অবিশ্বাস ও নিয়ন্ত্রণের বাসনা তীব্র হয়ে ওঠে। সিরিজটির নির্মাতা জোয়ে কাজান মনে করেন, ক্যাথিকে শুধু অশুভ হিসেবে দেখার সুযোগ মূল উপন্যাসেই ছিল। স্টেইনবেক নিজেও উপন্যাসে ক্যাথির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন এবং বলেছিলেন যে কাউকে খারাপ বলার আগে তার পেছনের কারণ জানা জরুরি। নেটফ্লিক্সের সিরিজটি নতুন কোনো কাল্পনিক অতীত তৈরি না করে মূল উপন্যাসের এই ইঙ্গিতগুলোকেই নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। ক্যাথির চরিত্রে ফ্লোরেন্স পিউ সংযত অথচ তীব্র অভিনয় করেছেন। তার অভিনয়ে ভয়, সন্দেহ ও দীর্ঘদিনের কষ্ট ফুটে উঠেছে। সিরিজের শেষ পর্বে আত্মহত্যার আগে ক্যাথির স্মৃতির রোমন্থন এবং ছোটবেলার পাঁচ বছর বয়সী রূপকথার পোশাক পরা ক্যাথির সঙ্গে তার দেখা করার দৃশ্যটি চরিত্রটির মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে। টাইম ম্যাগাজিনের সমালোচক জুডি বারম্যানের বিশ্লেষণে, সিরিজটি ক্যাথিকে নির্দোষ প্রমাণ করতে চায় না, বরং সে জন্মগতভাবে দানব ছিল নাকি জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতা তাকে এমন করেছে, সেই প্রশ্নটিই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।