টিসিবি থেকে বাদ ৫৯ লাখ সুবিধাভোগী, ৫ বছরে ভর্তুকি শূন্যে নামানোর পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদন | প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪১ পিএম
টিসিবি থেকে বাদ ৫৯ লাখ সুবিধাভোগী, ৫ বছরে ভর্তুকি শূন্যে নামানোর পরিকল্পনা
ছবি: সংগ্রহীত

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) সুবিধাভোগীর তালিকা যাচাই-বাছাই করে ৫৯ লাখ মানুষকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একই সঙ্গে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে টিসিবির ভর্তুকি শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে টিসিবির ডিজিটাল রূপান্তর কার্যক্রম ও পণ্য বিক্রি কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, টিসিবির কার্ড ডিজিটাল করার ফলে বছরে ৩০০ থেকে সাড়ে ৩৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি কমে আসবে। ডিজিটাল ব্যবস্থায় কার্ডধারীরা আরও সহজে পণ্য সংগ্রহ করতে পারবেন। কার্ড হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলেও যাতে সুবিধাভোগীরা পণ্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত না হন, সে ব্যবস্থাও করা হবে।

বর্তমানে প্রায় ৮০ লাখ টিসিবি কার্ডধারী সুবিধাভোগীর কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অ্যাপের মাধ্যমে কার্ড বা নগদ টাকা ছাড়াই পণ্য কেনার ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ডিলাররা অনলাইনে পণ্যের ডেলিভারি নেওয়া ও পেমেন্ট করতে পারবেন। প্রয়োজনের তুলনায় ডিলার হওয়ার আবেদন বেশি হলে ডিজিটাল পদ্ধতিতে লটারি করা হবে বলেও জানান তিনি।

টিসিবির কার্যক্রমে সরবরাহ ও সাপ্লাই চেইনের মধ্যে বৈষম্য রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, এ কারণে বাজারে এখনো স্থিতিশীলতা আসেনি। ভর্তুকির মাধ্যমে টিসিবি যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তা দেশের মানুষের জন্য উপকারী হবে বলেও তিনি মনে করেন।

টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, এক কোটি স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডের মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০ লাখ বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬৩ লাখ ৫০ হাজার কার্ড সক্রিয় রয়েছে। সম্প্রতি বিতরণ করা আরও প্রায় ৬ লাখ কার্ড অ্যাকটিভেশনের পর্যায়ে আছে।

টিসিবির মুখপাত্র ও উপপরিচালক (বাণিজ্যিক) মো. শাহাদাত হোসেন জানান, এক কোটি স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডের মধ্যে ২৩ লাখের তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। বাকি ৭৭ লাখের মধ্যে প্রায় ৭০ লাখ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। আরও ৭ লাখের বেশি কার্ডের তথ্য টিসিবির কাছে রয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে এসব কার্ডও বিতরণের প্রক্রিয়া চলছে।

টিসিবি দীর্ঘদিন ধরে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করে আসছে। বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী সয়াবিন তেল, মসুর ডাল, চিনি, ছোলা, আলু, পেঁয়াজ, খেজুরসহ বিভিন্ন পণ্য ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়।

কার্ডধারীরা নির্ধারিত মূল্যে ৫ কেজি চাল, ২ কেজি মসুর ডাল, ২ লিটার সয়াবিন তেল ও চিনি কিনে থাকেন। সুবিধাভোগীদের কেউ কেউ পণ্যের সংখ্যা ও পরিমাণ আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, কম দামে এসব পণ্য পাওয়া গেলেও একটি পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে বর্তমান পরিমাণ যথেষ্ট নয়।

টিসিবির সেবা আরও স্বচ্ছ ও গতিশীল করতে ২০২২ সালে এক কোটি ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড চালুর মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের তথ্য ডিজিটাল ব্যবস্থায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত স্বল্প আয়ের মানুষকে তালিকায় রাখার পাশাপাশি অযোগ্য ও ভুয়া কার্ড বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে টিসিবির ‘উপকারী’ মোবাইল অ্যাপও উদ্বোধন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের পণ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া আরও সহজ করার পাশাপাশি টিসিবির বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

একই দিন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ, বিশুদ্ধ ও মানসম্মত পণ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে অধিদপ্তরকে প্রযুক্তি, জনবল ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার দিক থেকে আরও শক্তিশালী করা হবে।

তিনি বলেন, একজন মানুষ কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে যেন ভেজাল, নিম্নমানের বা ক্ষতিকর পণ্য কিনতে বাধ্য না হন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। অধিদপ্তরের সেবাগুলো পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নেওয়ার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, জনবল ও আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়ানোর কথাও জানান তিনি।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানের কাঠামো, জনবল ও সেবা কার্যক্রম নিয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে (বিআইডিএস) দিয়ে গবেষণা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। গবেষণার সুপারিশের ভিত্তিতে অধিদপ্তরের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও জনবান্ধব করার পরিকল্পনার কথা বলেন তিনি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে