বাঘায় পদ্মার ভাঙনে পলাশি ফতেপুর আতারপাড়া চৌমাদিয়াসহ ৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়

এফএনএস (আমানুল হক আমান; বাঘা, রাজশাহী) : | প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম
বাঘায় পদ্মার ভাঙনে পলাশি ফতেপুর আতারপাড়া চৌমাদিয়াসহ ৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়

রাজশাহীর বাঘায় পদ্মার মধ্যে চকরাজাপুর ইউনিয়নের পলাশি ফতেপুর, আতারপাড়া ও চৌমাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভাঙনে পদ্মা নদীর গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। ভাঙনের কারনে বিদ্যালয়ের মালামাল অন্যত্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। বিদ্যালয় তিনটির পাঠদান বন্ধ রয়েছে। 

চকরাজাপুর, কালিদাসখালী, লক্ষীনগর, দাদপুর, নিচ পলাশি, পলাশি ফতেপুর, আতারপাড়ায়, চৌমাদিয়ায়া, দিয়ারকাদিরপুরসহ ১৫টি চরে ১ হাজার ২০০ পরিবারে ২০ হাজার মানুষ পানিবন্ধী হয়ে পড়েছে। শতাধিক বাড়ি ও মসজিদ পদ্মা গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে।

জানা গেছে, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে হটাৎ পানি বৃদ্ধি শুরু করে। এরমধ্যে  পলাশি ফতেপুর, আতারপাড়া ও চৌমাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভাঙনে নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। বিদ্যালয়ের মালামাল অন্যত্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। পলাশি ফতেপুর, আতারপাড়া ও চৌমাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান বন্ধ রয়েছে। 

চকরাজাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড আতারপাড়ায়, ২ নম্বর ওয়ার্ড চৌমাদিয়ায়া এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ড দিয়ারকাদিরপুর চরের জয়নাল আবেদিন, মুসা হালদার, আজগর মোল্লা, আনোয়ার শিকদার, আনজিরা বেগম, পারুল বেগম, তাজেল গাজি, আজিজ গাজি, আকবর আলী, আলম ব্যাপারি, মাজেদা বেগম, তরিকুল ইসলাম, হোসেন আলী, দিলু দর্জি, জালাল উদ্দিন, জলিল মোল্লা, সানোয়ার মোল্লা, ফারুক ব্যাপারি, আবু মোল্লা, ইব্রাহীম হালদার, বাবলু হালদার, আয়নাল মোল্লা, কাদিও গাজি, ফরুক ব্যাপারি-২, আমাল ব্যাপারি, ফজল হালদারসহ ১০০টি বাড়ি ও ফলাশি ফতেপুর, চৌমাদিয়া, আতারপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মসজিদ পদ্মা গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। তারা অন্যস্থানে আশ্রয় নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন চকরাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর চৌমাদিয়ায় ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর আবদুর রহমান। 

এ বিষয়ে আতারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, পদ্মা ভাংতে ভাংতে শেষ পর্যন্ত নদী গর্ভে চলেই গেল স্কুলটি। পদ্মার চরের মধ্যে আজ স্কুল ভালো দেখে গেলাম, কাল এসে দেখতে হবে স্কুল নেই। শেষ পর্যন্ত স্কুল স্থানান্তর করতে করতে বিলিন হয়ে গেল। এ স্কুলে শিক্ষার্থী রয়েছে ৮৫ জন। শিক্ষক রয়েছে ৩ জন। 

উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তার নির্দেশে মালামাল সরিয়ে নিতে নিতে ১০ সেপ্টেম্বর দুপুরে নদী গর্ভে চলে গেছে। 

এ বিষয়ে চৌমাদিয়া চরের সোলেমান মোল্লা বলেন, পদ্মায় ক্রমাগত পানি বৃদ্ধিতে পাচ্ছে। ফলে গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন মানুষ। এছাড়া ভাঙনের কবলে পড়েছেন ১৫টি চরের মানুষ।

চৌমাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সোহেল রানা বলেন, বিদ্যালয়ে যাওয়ার কোন পরিস্থিতি নেই, তাই পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। এ বিদ্যালয়ে ৯১ জন শিক্ষার্থী ও ৩ জন শিক্ষক রয়েছে। 

 উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তকী ফয়সাল তালকদার বলেন, নদী ভাঙন ও বিদ্যালয় পরিদর্শন করে আতারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মালামাল সরে নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পানিবন্ধীদের সহযোগিতার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। 

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে