বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় তিন দফায় মোট ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ড শেষে আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে আদালতে শুনানি শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. ফিরোজ উদ্দিন দীপকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। প্রয়োজনে তাকে আবারও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হতে পারে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার দিন তাহসিফের সঙ্গে ঘোরাফেরা, বিভিন্ন স্থানে যাওয়া এবং রেস্টুরেন্টে খাওয়াদাওয়ার বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য দিয়েছেন দীপ। তবে হত্যাকাণ্ড নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন তিনি। কিছু প্রশ্নে নীরবও ছিলেন।
আবেদনে বলা হয়, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাহসিফকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান দীপ। পরে তারা একসঙ্গে একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে যান। সেখানে মোটরসাইকেলের কাজ করানোর পর জেরিকা তাসনিম দিশাকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর সিপি ফাইভ স্টারে একাধিকবার নাশতা করেন। ওই দিন রাতে তারা উত্তরা নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে যান। সেখানে তিনজন বিয়ার ও বুমপান করেন। একপর্যায়ে জেরিকা বাসায় চলে যান।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৮ অক্টোবর রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে তাহসিফ ও দীপ টঙ্গীর মাজার বস্তিতে পৌঁছান। পরে সেখান থেকে হেঁটে তুরাগ নদীর তীরবর্তী একটি মাঠে যান। সেখানে কয়েকজন লোককে দেখে তারা আলাদা হয়ে যান বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন দীপ।
রিমান্ড আবেদনে পুলিশ আরও জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের কললিস্টসহ বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনায় মৃত্যুর আগে তাহসিফকে সর্বশেষ দীপ ও জেরিকার সঙ্গে দেখা গেছে। তাদের সঙ্গে তাহসিফের চলাফেরা এবং বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে যাওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার দুই সন্দেহভাজনের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, রিমান্ডে দীপ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে সেগুলো প্রকাশ না করে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন বলেও দাবি তদন্তসংশ্লিষ্টদের।
মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে দীপকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে পুলিশ।