নীলফামারীর সৈয়দপুরে আহমেদ প্লাইউড কোম্পানির শ্রমিকদের সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকেরা রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করলে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে দুর্ভোগে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী। পরে স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবহণ শ্রমিক ও আটকে পড়া যানবাহনের চালক-হেলপারদের সম্মিলিত প্রতিবাদের মুখে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। থানা পুলিশের সহযোগিতায় প্রায় দুই ঘণ্টা পর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। গৎ ৫ নভেম্বর কামারপুকুরের ধলাগাছ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অন্যদিকে, বেতন না পাওয়ায় মালিকের বিরুদ্ধে আন্দোলন না করে কেন সরকারি লোকের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা হচ্ছে এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি শ্রমিকরা। তাদের কথা মালিকপক্ষের ইন্ধনে তারা সড়ক অবরোধ করে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, কয়া গোলাহাট এলাকায় অবস্থিত আহমেদ প্লাইউড কোম্পানিতে গৎ ৩ নভেম্বর ভ্যাট ও ট্যাক্সসংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র যাচাই করতে আসে বাংলাদেশ কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের একটি দল। যাচাই-বাছাইয়ের একপর্যায়ে অধিকতর তদন্তের স্বার্থে প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও একটি ল্যাপটপ জব্দ করে নিয়ে যান কর্মকর্তারা। এ সময় সরকারি দায়িত্ব পালনকালে কাস্টমস কর্মকর্তাদের হেনস্তা করার অভিযোগও ওঠে।
গৎ ৫ নভেম্বর কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। পরে শ্রমিকদের জানানো হয়, কাস্টমসের নিয়ে যাওয়া কাগজপত্র ও ল্যাপটপ ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত বেতন পরিশোধ করা সম্ভব নয়। এতে ক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা প্রশাসনের মাধ্যমে জব্দ করা নথিপত্র ফেরত আনার দাবিতে আন্দোলনে নামেন। একপর্যায়ে কারখানা থেকে বেরিয়ে মহাসড়কের ওপর বসে পড়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন তাঁরা।
এ সময় শ্রমিকেরা বেতন পাওয়ার স্বার্থে জব্দ করা কাগজপত্র ফেরত দেওয়ার দাবি জানান। তবে গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয়রা তাঁদের কাছে জানতে চান, বেতনের দাবি মালিকপক্ষের কাছে না জানিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করা হচ্ছে কেন? জবাবে শ্রমিকেরা জানান, কাগজপত্র না থাকায় বেতন দেওয়া সম্ভব নয় বলে কর্তৃপক্ষ তাঁদের জানিয়েছে।
শ্রমিকদের অবরোধে ভোগান্তিতে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী। খবর পেয়ে সৈয়দপুর থানা পুলিশ, পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়ন, বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। কিন্তু শ্রমিকেরা অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার অবস্থানে অনড় থাকেন।
এ অবস্থায় ভোগান্তির স্বীকার যানবাহনের চালক-হেলপার ও স্থানীয় বাসিন্দারা একজোট হয়ে অবরোধের প্রতিবাদ জানান। তাঁরা শ্রমিকদের উদ্দেশে বলেন, বেতন-ভাতার দাবিতে কারখানার ভেতরে আন্দোলন করার অধিকার তাঁদের রয়েছে। কিন্তু মহাসড়ক অবরোধ করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে দুর্ভোগ সৃষ্টি করার অধিকার কারও নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম তদন্তের অংশ হিসেবেই কাগজপত্র ও ল্যাপটপ জব্দ করেছে। এ নিয়ে আপত্তি থাকলে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারে। কিন্তু শ্রমিকদের সামনে রেখে বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। একপর্যায়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও আটকে পড়া যানবাহনের চালক-হেলপাররা সম্মিলিতভাবে অবরোধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে শ্রমিকেরা সড়ক থেকে সরে যেতে বাধ্য হন।
এলাকাবাসী আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয়দের জমিতে কারখানাটি গড়ে উঠলেও সেখানে স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের সুযোগ কম। শ্রমিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় বলেও অভিযোগ তাঁদের। তাঁদের দাবি, ভ্যাট-ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে মালামাল সরানোর অভিযোগসহ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অনিয়মের কারণেই কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নথিপত্র জব্দ করেছে।
অভিযোগের বিষয়ে আহমেদ প্লাইউড কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক এ কে এম সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমড়া শ্রমিকদের সড়কে নামাইনি। কাগজপত্র নিয়ে গেছে কাস্টমস। তাই বেতন দিতে পারছি না। কাস্টমসের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে শ্রমিকদের আন্দোলনে নামার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আইনগত ব্যবস্থা নিতে গেলে অনেক সময়ের ব্যাপার।