ক্রমেই যাত্রী সংকটে পড়ছে অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলো

এফএনএস এক্সক্লুসিভ | প্রকাশ: ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:১৮ এএম
ক্রমেই যাত্রী সংকটে পড়ছে অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলো

ক্রমেই যাত্রী সঙ্কটে পড়ছে দেশের অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলো। ইতিমধ্যে প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে কয়েকটি অভ্যন্তরীণ বিমান রুট। বিশেষ করে প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে বরিশাল রুট। আর যশোরেও ফ্লাইট সংখ্যা কমে এক বা দুটিতে এসেছে। একসময় যশোর রুটে উড়োজাহাজের আসন ব্যবহারের হার প্রায় ১০০ শতাংশ থাকলেও বর্তমানে তা ১০ শতাংশে নেমে এসেছে। মূলত তুলনামূলক বেশি বিমান ভাড়া এবং উন্নত সড়ক যোগাযোগ অভ্যন্তরীণ আকাশপথে যাত্রী কমার অন্যতম কারণ। ফলে যেসব রুটে সড়কপথে দ্রুত ও কম খরচে যাওয়া যায়, সেসব রুটে কমেছে বিমানের চাহিদা। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিগত দুই বছর ধরে যশোর, বরিশাল, রাজশাহীর শাহ মখদুম ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরে কমেছে ধারাবাহিকভাবে যাত্রীসংখ্যা। তার মধ্যে যশোরে সবচেয়ে বেশি পতন ঘটেছে। তবে ঢাকার হজরত শাহজালাল, চট্টগ্রামের শাহ আমানত, সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক ও কক্সবাজার বিমানবন্দরে আগের পতন কাটিয়ে গৎ অর্থবছরে যাত্রী চলাচলে পুনরুদ্ধার হয়েছে। বিগত ২০২২-২৩ অর্থবছরে যশোর বিমানবন্দর দিয়ে যাতায়াত করেছিলো ২ লাখ ২১ হাজার যাত্রী। আর দুই বছর পর ওই সংখ্যা ৯২ হাজার ২০০-এর কিছু বেশি নেমে আসে। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে যাত্রী ৪৪ হাজারে নেমে আসে। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় অর্ধেক।

সূত্র জানায়, যাত্রী পরিবহনে বর্তমানে বরিশাল বিমানবন্দরেও পরিস্থিতি নাজুক অবস্থায় রয়েছে। বিগত ২০২২-২৩ অর্থবছরে ওই বিমানবন্দরে যাত্রী ছিল ৫৮ হাজার। কিন্তু দুই বছর পর তা অর্ধেকের নিচে নেমে আসে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে ওই বিমানবন্দরে যাত্রীসংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৮ হাজার ৭০০-তে। মূলত যশোর ও বরিশালে যাত্রী কমার পেছনে বড় কারণ হিসেবে পদ্মা সেতুর প্রভাব দেখা হচ্ছে। বিগত ২০২২ সালের জুনে পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার সড়ক যোগাযোগ অনেক সহজ হয়েছে। ফলে কম সময়ে ও তুলনামূলক কম খরচে যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হওয়ায় অনেক যাত্রীই আকাশপথ ছেড়ে বেছে নিচ্ছে সড়কপথ। তাছাড়া রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরেও যাত্রী কমেছে। দুই বছর আগে বছরে যেখানে ১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি যাত্রী যাতায়াত করতো, গৎ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে ওই সংখ্যা ৮২ হাজার ২০০-তে নেমে এসেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩০ শতাংশ কম। আর দেশের উত্তরের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর সৈয়দপুরেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে ৩ লাখের বেশি যাত্রী ওই বিমানবন্দর ব্যবহার করলেও তা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ শতাংশ কম।

সূত্র আরও জানায়, অভ্যন্তরীণ আকাশপথে যশোর ও বরিশাল রুটে যাত্রী কমে যাওয়ার প্রভাব সামগ্রিক অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচলে পড়ছে। কারণ যাত্রী না থাকায় ফ্লাইট পরিচালনা কমাতে হচ্ছে। তাতে একদিকে বিমান সংস্থাগুলোর ব্যবসায়িক সক্ষমতা কমার পাশাপাশি যাত্রীদের বিকল্প পরিবহণ সুবিধাও কমছে। গৎ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে দেশের বিমানবন্দরগুলোতে ১ কোটি ৫৮ লাখের বেশি যাত্রী যাতায়াত করেছে। তার মধ্যে তিন-চতুর্থাংশের বেশি যাত্রী ব্যবহার করেছে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। আর চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে যাতায়াত করা মোট যাত্রীর প্রায় ৯ শতাংশ ছিলো অভ্যন্তরীণ যাত্রী। তারপরের অবস্থানেই রয়েছে কক্সবাজার বিমানবন্দর। ফলে দেশের আঞ্চলিক কয়েকটি বিমানবন্দর ক্রমেই যাত্রী সংকটে পড়ছে। 

এদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের অভ্যন্তরীণ বিমান রুট সচল রাখতে বিমান ভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে আনা, সময়সূচি পুনর্বিন্যাস এবং যাত্রী চাহিদা অনুযায়ী ফ্লাইট পরিচালনার উদ্যোগ জরুরি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে