সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে ঢাকায় আসছে ভারতের দ্বিতীয় সারির দল। একই সময়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলবে দেশটির মূল জাতীয় দল। ফলে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় সাফের জন্য অনূর্ধ্ব-২৩ ও রিজার্ভ খেলোয়াড়দের প্রাধান্য দিয়ে ২৮ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ)। তবে স্কোয়াডে লিস্টন কোলাসো, সুরেশ সিং ওয়াংজাম, ফারুখ চৌধুরী ও চিংলেনসানা সিং কোনশামের মতো অভিজ্ঞ ফুটবলারও রয়েছেন।
আগামী ৫ থেকে ১৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। ভারতের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের প্রধান কোচ নওশাদ মুসা এই প্রতিযোগিতায় জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁর সহকারী হিসেবে থাকছেন অনূর্ধ্ব-১৫ দলের কোচ বিবিয়ানো ফার্নান্দেজ। সম্প্রতি আজারবাইজানে অনুষ্ঠিত ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যালে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৫ দলের কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
ভারতের মূল জাতীয় দল একই সময়ে নিউজিল্যান্ড সফরে যাবে। সেখানে ১২ ও ১৫ নভেম্বর দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলবে তারা। ম্যাচ দুটি হবে অকল্যান্ড ও ক্রাইস্টচার্চে। নিয়মিত প্রধান কোচ খালিদ জামিল থাকবেন সেই দলের দায়িত্বে। বিশ্বকাপে খেলা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের শক্তিশালী দল খেলাতে চান তিনি।
ভারতের কোচ খালিদ জামিলের মতে, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলের বিপক্ষে খেলার সুযোগ জাতীয় দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের ম্যাচ খেলার প্রস্তাব এলে তিনি ফেডারেশনের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হন বলেও জানিয়েছেন। দুই প্রতিযোগিতার সূচি সাংঘর্ষিক হওয়ায় সাফে মূল দলের পরিবর্তে বয়সভিত্তিক ও রিজার্ভ খেলোয়াড়দের নিয়ে দল গড়েছে এআইএফএফ।
তবে অভিজ্ঞদের পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়নি। ঘোষিত দলে লিস্টন কোলাসো, সুরেশ সিং ওয়াংজাম, চিংলেনসানা সিং কোনশাম, ফারুখ চৌধুরী, বিজয় ভার্গিস, ইরফান ইয়াদওয়াদ ও ব্রিসন ফার্নান্দেসের মতো সিনিয়র জাতীয় দলের ফুটবলার রয়েছেন।
ভারত রয়েছে সাফের ‘বি’ গ্রুপে। তাদের প্রতিপক্ষ মালদ্বীপ ও পাকিস্তান। ৫ নভেম্বর পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করবে ভারত। বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে ম্যাচটি। একই সময়ে ১১ নভেম্বর মালদ্বীপের মুখোমুখি হবে তারা।
স্বাগতিক বাংলাদেশ খেলবে ‘এ’ গ্রুপে। এই গ্রুপে বাংলাদেশের অন্য দুই প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা ও ভুটান। দুই গ্রুপের শীর্ষ দুটি করে দল উঠবে সেমিফাইনালে। আগামী ১৪ নভেম্বর শেষ চারের লড়াই এবং ১৭ নভেম্বর ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। টুর্নামেন্টের সব ম্যাচ হবে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে।
ভারতের ২৮ সদস্যের দলের ১৮ জন ৩ নভেম্বর কলকাতা থেকে ঢাকায় আসবেন। বাকি ১০ জন পরবর্তী কয়েক দিনে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন। খেলোয়াড়দের সাফে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ায় ক্লাবগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এআইএফএফের উপসচিব এম সত্যনারায়ণ। তিনি বলেন, ‘সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য খেলোয়াড়দের ছেড়ে দেওয়ায় সব ক্লাবকে ধন্যবাদ জানাই। দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ করে দেওয়ায় তাদের সহযোগিতা ও সমর্থনকে আমরা সম্মান করি।’
২০২৩ সালে বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে কুয়েতকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল ভারত। এবার তাদের সামনে রেকর্ড দশমবারের মতো দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের সুযোগ। তবে দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ সামলাতে হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের।
ভারতের ২৮ সদস্যের দল
গোলরক্ষক: আরশ আনোয়ার শেখ, কে মোহনরাজ, প্রিয়াংশ দুবে।
ডিফেন্ডার: আবদুল রাবি, বিজয় ভার্গিস, চিংলেনসানা সিং কোনশাম, হমিংথানমাউইয়া রালতে, খাইমিনথাং লুংদিম, মুহাম্মদ উভাইস, নাথান রড্রিগেজ, রনি খারবুদন, সন্দীপ মান্ডি।
মিডফিল্ডার: অভিষেক সূর্যবংশী, অ্যাডিসন সিং থোকচম, ব্রিসন ফার্নান্দেস, এবিনদাস ইয়েসুদাসান, ফারুখ চৌধুরী, ম্যাকার্টন নিকসন, মাংলেনথাং কিপগেন, নিখিল প্রভু, নৌফল পিএন, রিকি জন শাবং, সুরেশ সিং ওয়াংজাম।
ফরোয়ার্ড: ইরফান ইয়াদওয়াদ, লিস্টন কোলাসো, মুহাম্মদ সুহাইল, বিষ্ণু পিভি, সুহাইল আহমেদ ভাট।