স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশ নিতে আইনগত কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ বিষয়ে কোনো পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত শিক্ষকরা আগের মতোই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী নেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। মন্ত্রীর ভাষ্য, সরকারের ঘনিষ্ঠ কেউ হলেও মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থী কাজ করলে তাঁর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের নতুন ভবন উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী এ বিষয়ে আইনের যথার্থ ব্যাখ্যাই দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশ নিতে কোনো বাধা নেই। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আগের নিয়মেই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে বিকল্প কোনো ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার বিষয়ে সরকার আশাবাদী জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ইতিবাচক পরিবর্তনের বিষয়ে আশা রাখা যায়। এ জন্য সরকারের ওপর আস্থা রাখতে হবে। সরকারের কাজের মাধ্যমেই পরিবর্তনের প্রমাণ পাওয়া যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র হাতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের অংশগ্রহণ এবং তাঁর পদত্যাগের বিষয়ে সাংবাদিকেরা আইনমন্ত্রীর কাছে জানতে চান। জবাবে তিনি বলেন, কেউ সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থী কোনো কাজ করলে তাঁর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
আসাদুজ্জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন, কেউ মানুষের প্রত্যাশার বিপরীতে কাজ করলে তিনি যত ঘনিষ্ঠই হোন না কেন, তাঁর বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার দৃষ্টান্ত রেখেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, “আমরা কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নই। সুতরাং এটা আমাদের সবার মাথায় রাখতে হবে।”
সাম্প্রতিক সময়ে অনিয়মের মাধ্যমে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের অভিযোগের বিষয়েও প্রশ্ন করা হয় আইনমন্ত্রীকে। জবাবে তিনি দাবি করেন, সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।
জামায়াতে ইসলামীর অভিযোগকে রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান বলেন, বিরোধী দল হিসেবে তাদের রাজনীতি করার জন্য একটি বিষয় প্রয়োজন। তাঁর দাবি, বিরোধী দল অনেক ক্ষেত্রেই সরকারের কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করে থাকে। সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে ওঠা অভিযোগ তাঁরা বিশ্বাস করেন না বলেও জানান তিনি।
এর আগে সোমবার সকালে ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। পরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের নতুন ভবন উদ্বোধন করেন তিনি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষকদের অংশগ্রহণ, ইশরাক হোসেনের বিষয়ে সরকারের অবস্থান এবং সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে ওঠা অভিযোগের জবাব দেন মন্ত্রী।
অনুষ্ঠান ও সভায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন, ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান, জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এমএ মজিদ, সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা এবং শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, পুলিশ প্রশাসন, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।