মহাদেবপুরে

নতুন রাস্তা নিতে মারপিট, ভাংচুর, একের পর এক মিথ্যা মামলা

এফএনএস (রওশন জাহান; মহাদেবপুর, নওগাঁ) : | প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম
নতুন রাস্তা নিতে মারপিট, ভাংচুর, একের পর এক মিথ্যা মামলা

নওগাঁর মহাদেবপুরে বাড়ির পাশ দিয়ে বের হবার চওড়া গলির রাস্তা থাকলেও তা ব্যবহার না করে বাড়ির সামনে প্রতিবেসীর জমির উপর দিয়ে অবৈধভাবে রাস্তা নিতে একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের, মারপিট, হুমকি-ধামকি ও ইটের প্রাচীর ভাংচুর করা হয়েছে। থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিন জনকে আটক করার পরও প্রতিনিয়ত হুমকি প্রদান করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

উপজেলা সদরের মডেল স্কুলপাড়ার মৃত আলেম উদ্দিনের ছেলে সুখেল হোসেন অভিযোগ করেন যে, প্রতিবেসী মোশাররফ মন্ডলের ছেলে নুর আলম তিন শতক জায়গা কিনে পাকা বাড়ি নির্মাণ করেন। কিন্তু তিনি বাড়ি থেকে বের হবার রাস্তার জন্য কোন জায়গা ফাঁকা রাখেননি। তার বাড়ির উত্তরদিকের প্রতিবেসীরা চওড়া গলি রাস্তা রেখেছেন। সে গলি ব্যবহার করে তারা নদীর বাঁধের রাস্তা ও মডেল স্কুল বড় রাস্তা পর্যন্ত যান। কিন্তু নুর আলম সে গলির রাস্তা ব্যবহার না করে পশ্চিম দিকে সুখেলের জায়গা ব্যবহার করে নদীর বাঁধের রাস্তায় যাবার অপচেষ্টা চালাতে থাকেন। সুখেল বরাবর তার জমি রাস্তা হিসেবে ব্যবহারের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন। এতে নুর আলমের স্ত্রী সাহারা বেগম লোকজনদের নিয়ে নানান হুমকি-ধামকি দিতে থাকেন। এনিয়ে থানায় একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হলে বারে বারে বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এছাড়াও রাস্তার দাবিতে কোর্টে কয়েকটি মামলাও দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও জমি মাপজোখ করে নুর আলমের স্ত্রীকে প্রতিবেসীদের ছেড়ে দেয়া গলির রাস্তা ব্যবহারের পরামর্শ দেন। এরই মধ্যে সুখেল তার জমিতে মাটি ভরাট করে ইটের প্রাচীর নির্মাণ করেন। নুর আলম গত ৯ অক্টোবর সকালে একদল বহিরাগত লাঠিয়াল নিয়ে এসে সন্ত্রাসী কায়দায় ওই প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলে। সুখেল বাঁধা দিতে গেলে তাকে, তার মা কল্পনা বেগম, স্ত্রী শাবনুর বেগম ও ভগ্নিপতি মাসুদ হোসেনকে বেদম মারপিট করে। সুখেলের শিশু সন্তানকেও মায়ের কোল থেকে কেড়ে নিয়ে ফেলে দেয়। এতে সুখেলের হাতে ভাঙ্গা জখম হয়। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। তাদের উপর হামলার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

ঘটনার সময় ৯৯৯ নম্বরে কল দিলে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উপজেলার ভীমপুর ইউনিয়নের পাতনা গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ছেলে জাহিদুল ইসলাম, নওগাঁ সদর উপজেলার ফারাদপুর গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে জহুরুল ইসলাম ও পানিসাইল গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে ফিরোজ হোসেনসহ তিনজনকে আটক করে। পরে এব্যাপারে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় নুর আলম, তার স্ত্রী সাহারা বেগম ও ভালাইন গ্রামের মফিজ মন্ডলের ছেলে মোয়াজ্জেম হোসেনকেও আসামী করা হয়। কিন্তু তাদেরকে থানা পুলিশ আটক করতে পারেনি। মামলা দায়েরের পরও নুর হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা সুখেল ও তার পরিবারকে নানান হুমকি দিয়ে আসছে। তারা সুখেলের জমির উপর নির্মিত ভেঙ্গে দেয়া ইটের প্রাচীর মেরামত করতে দিচ্ছেনা। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা মহাদেবপুর থানার এসআই সাফিউল ইসলাম জানান, আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে