ক্ষেতলালে অসুস্থ গরু জবাই করে মাংস বিক্রির চেষ্টা, জরিমানা

এফএনএস (মোঃ হাসান আলী মন্ডল; ক্ষেতলাল, জয়পুর হাট) : | প্রকাশ: ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ০৫:৪৭ পিএম
ক্ষেতলালে অসুস্থ গরু জবাই করে মাংস বিক্রির চেষ্টা, জরিমানা

রাতের আঁধারে অসুস্থ গরু জবাই করে সেই মাংস বিক্রির উদ্দেশ্যে ভ্যানে করে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে নিয়ে যাওয়ার পথে অভিযান চালিয়ে তা উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে গরুর মালিকসহ চারজনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং জবাই করা গরুটি মাটিচাপা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে  উপজেলার বাশথুপী গ্রাম থেকে বড়তারা গ্রামে নেওয়ার পথে গরুটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাশথুপী গ্রামের মফিজের ছেলে রবিউল ইসলামের প্রায় ৭০- ৮০ হাজার টাকা মূল্যের একটি গরু দুই দিন আগে পেটে সমস্যা জনিত কারণে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। স্থানীয় পশুচিকিৎসকের চিকিৎসা সত্ত্বেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তিনি গরুটি উপজেলার বড়তারা গ্রামের ইব্রাহিম, এন্তাজুল ও আলাউদ্দিনের কাছে বিক্রি করে দেন। শুক্রবার রাতেই রবিউলের বাড়িতে গরুটি জবাই করে ভ্যানযোগে বড়তারা গ্রামে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে ক্ষেতলাল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে জবাই করা গরুটি আটক করে। পরে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ বিভাগকে অবহিত করেন তারা ।

এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও গরুর মালিক রবিউল ইসলামকে পাওয়া যায়নি। তবে ক্রেতা ইব্রাহিম, এন্তাজুল ও আলাউদ্দিন দাবি করেন, গরুটি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। আমরা বিক্রির জন্য নয়, বরং নিজেরাই মাংস ভাগাভাগি করে খাওয়ার উদ্দেশ্যে কিনে জবাই করেছিলাম। ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তারুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অসুস্থ গরু জবাইয়ের বিষয়টি জানতে পারে। পরে উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

সংবাদ পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ক্ষেতলাল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুর রউফ। তিনি পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইনে গরুর মালিক রবিউল ইসলামসহ ক্রেতা ইব্রাহিম, এন্তাজুল ও আলাউদ্দিনকে মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এড়াতে জবাই করা গরুটি মাটিচাপা দেওয়ার নির্দেশ দেন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ফারুক মিয়া বলেন, অসুস্থ পশুর মাংস মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর ও খাওয়ার অযোগ্য। এ ধরনের মাংস খেলে নানা জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরির পাশাপাশি মারাত্মক অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে