ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জনবল সংকট দেখা দিয়েছে। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় দাপ্তরিক কার্যক্রম, বিদ্যালয় পরিদর্শন ও শিক্ষকদের সেবা প্রদান ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতেও রয়েছে শিক্ষক সংকট। ফলে সামগ্রিকভাবে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, শৈলকুপা উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও১টি পৌর সভায় মোট ১৮২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে ১১ হাজার ৪২ জন শিক্ষক কর্মরত। বিপুলসংখ্যক শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকির বিপরীতে উপজেলা শিক্ষা অফিসেই রয়েছে জনবল ঘাটতি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে বর্তমানে দুইজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার, দুইজন সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, একজন হিসাব সহকারী এবং একজন এমএলএসএসের পদ শূন্য রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এসব পদে জনবল না থাকায় সীমিত সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অতিরিক্ত কাজের চাপ সামলাতে হচ্ছে।
এদিকে ১৮২ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৯৭ জন প্রধান শিক্ষক ও ৫৬ জন সহকারী শিক্ষকের পদ দীর্ঘ দিন ধরে শুন্য রয়েছে। ফলে এসব বিদ্যালয় গুলোতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় কর্মরত শিক্ষকদের অতিরিক্ত ক্লাস ও দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
শিক্ষকদের অভিযোগ, উপজেলা শিক্ষা অফিসে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকায় নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন ও তদারকি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। একইভাবে অফিসের অন্যান্য পদ শূন্য থাকায় শিক্ষকদের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক সেবা পেতেও ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে।এদিকে
জনবল সংকটের বিষয়টি সমাধানের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে একটি লিখিত অভিযোগ বিভাগীয় উপ-পরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা খুলনা; মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, মিরপুর, ঢাকা এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, ঝিনাইদহ বরাবর দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগে উপজেলা শিক্ষা অফিসের শূন্য পদগুলোতে দ্রুত জনবল নিয়োগের পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলোর শূন্য পদ পূরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে। সাবারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফারজানা মনিকা জানান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক না থাকায় একজন সহকারী শিক্ষক কে ভার প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হয়। তাকে স্কুলের শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি তাকে আবার স্কুলের কাজের জন্য শিক্ষা অফিস দৌড়াতে হয়। যে কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে বিগ্ন ঘটে। তাই দ্রুত এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেয়া জরুরি বলে আমি মনে করি। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা শিক্ষক সমিতির সভাপতি মনিরুল ইসলাম দ্রুত শূন্য পদ পূরণের দাবি জানিয়ে বলেন, শিক্ষা অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংকট এবং বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট-দুই সমস্যার সমাধান না হলে শিক্ষার গুণগত মান ধরে রাখা কঠিন হবে। তাই শিক্ষার্থীদের স্বার্থে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এব্যাপারে শৈলকুপা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মুহঃ ওলিউর রহমান জানান,প্রাথমিক শিক্ষার মনোনয়নে উপজেলা শিক্ষা অফিসের তদারকি ও প্রশাসনের কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু একই সঙ্গে অফিস ও বিদ্যালয় দুই পর্যায়েই জনবল সংকট থাকায় কাঙ্খিত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। যে কারনে সেবার মান ভাল না হওয়ায় অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের লিখিত অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণের উদ্যোগ নেবে। এতে একদিকে শিক্ষা অফিসের প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি ফিরবে, অন্যদিকে বিদ্যালয়গুলোতেও শিক্ষক সংকট অনেকটাই কমবে।