নাইটক্লাব-কাণ্ডে তদন্তের মুখে ইংলিশ পেসার কার্স

এফএনএস স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশ: ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম
নাইটক্লাব-কাণ্ডে তদন্তের মুখে ইংলিশ পেসার কার্স

ইংল্যান্ডের পেসার ব্রাইডন কার্সকে ঘিরে নতুন করে মাঠের বাইরের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ডার্বির একটি নাইট ক্লাবের ঘটনায় তাকে কিছু সময়ের জন্য আটক করেছিল পুলিশ। তবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। ঘটনার পর বিষয়টি তদন্ত করছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম দুই টেস্টের দলে থাকা কার্স দ্বিতীয় টেস্টের দলেও আছেন।

ঘটনাটি ঘটে শনিবার রাতে। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার্সের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যা পরে দ্য টেলিগ্রাফ প্রকাশ করে। ভিডিওতে দেখা যায়, দুই হাত পেছনে রেখে হ্যান্ডকাফ পরানো অবস্থায় পুলিশের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন এই পেসার। তার সঙ্গে ডারহাম ও ইংল্যান্ডের সতীর্থ ম্যাথু পটসকে কথা বলতে দেখা যায়। পেছনে ছিলেন সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক বেন স্টোকসও।

ঘটনার বিস্তারিত এখনো পরিষ্কার নয়। তবে জানা গেছে, পুলিশ কিছু সময়ের জন্য কার্সকে আটক করলেও তাকে গ্রেপ্তার করেনি। পরে তিনি দলের হোটেলে ফিরে যান। পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

ইসিবি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “গত রাতে ডার্বিতে একটি ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি এবং বর্তমানে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। সম্ভব হলে পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে আরও তথ্য জানানো হবে।”

পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের একাদশে সুযোগ না পাওয়ায় কার্সকে কাউন্টি দল ডারহামের হয়ে খেলার জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে সেই ম্যাচে ডারহাম ৩৩৮ রানে জয় পায়। কার্স ব্যাট হাতে ২৬ রান করার পাশাপাশি নেন ২ উইকেট। ম্যাচ শেষে সতীর্থদের সঙ্গে উদ্‌যাপন করতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকেই নাইট ক্লাবের ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গেছে।

লর্ডসে আগামী বৃহস্পতিবার শুরু হওয়ার কথা পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের। প্রথম দুই টেস্টের দলে থাকা কার্স দ্বিতীয় টেস্টের দলেও আছেন। ডারহামের হয়ে ম্যাচ খেলে ইংল্যান্ড দলের সঙ্গে তার যোগ দেওয়ার কথা ছিল সোমবার। তদন্তের পর দ্বিতীয় টেস্টে তার অবস্থান কী হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানায়নি ইসিবি।

কার্সকে ঘিরে এই ঘটনা সামনে আসার সময়ই নতুন করে আলোচনায় এসেছে ইংল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়ক জো রুটের সাম্প্রতিক মন্তব্য। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের আগের দিন রুট বলেছিলেন, নিজেদের ভাবমূর্তি রক্ষায় ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের আরও সচেতন হওয়া দরকার। খেলোয়াড়দের ‘ভালো রোল মডেল’ ও ‘ভালো মানুষ’ হওয়ার তাগিদও দিয়েছিলেন তিনি।

কার্সের ঘটনা ইংলিশ ক্রিকেটে গত এক বছরের মাঠের বাইরের বিতর্ককে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। এ সময় রাতের বিভিন্ন ঘটনায় আটজন ইংলিশ ক্রিকেটার জড়িয়েছেন।

গত শীতে নিউজিল্যান্ড সফরের সময় ওয়েলিংটনে হ্যারি ব্রুককে ঘিরে একটি নাইট ক্লাবের ঘটনা আলোচনায় আসে। সেখানে একটি নাইট ক্লাবের নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে ব্রুকের ঘটনা ঘটে। ওই সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন জ্যাকব বেথেল ও জশ টাংও।

অস্ট্রেলিয়া সফরেও মাঠের বাইরের ঘটনা আলোচনায় ছিল। অ্যাশেজ চলাকালে নুসায় ইংল্যান্ড দলের খেলোয়াড়দের মদ্যপানের ঘটনা সামনে আসে। বেন ডাকেটকে মদ্যপ অবস্থায় একটি ভিডিওতেও দেখা যায়। ওই অ্যাশেজ সিরিজে ইংল্যান্ড ৪-১ ব্যবধানে হারে।

এরপর গ্রীষ্মেও পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলায়নি। দলের নির্ধারিত কারফিউ ভাঙার ঘটনায় তখনকার অধিনায়ক বেন স্টোকস ও পেসার গাস অ্যাটকিনসন জড়িয়ে পড়েন। লন্ডনের একটি নাইট ক্লাবে নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় তাদের তদন্তের মুখেও পড়তে হয়। ওই ঘটনার পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের দল থেকে স্টোকস ও অ্যাটকিনসনকে বাদ দিয়েছিল ইসিবি।

এর পরের ছয় সপ্তাহে ইংল্যান্ড ক্রিকেটে একের পর এক পরিবর্তন আসে। নিউজিল্যান্ডের কাছে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হার, স্টোকসের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে আকস্মিক অবসর এবং টেস্ট দলের কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে বরখাস্ত করার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও আলোচনায় নিয়ে আসে।

তবে চলতি মাসের শুরুতে রুট জানিয়েছিলেন, জানুয়ারিতে চালু করা ‘মিডনাইট’ কারফিউ তুলে নেওয়া হবে। স্কাই স্পোর্টসকে তিনি বলেছিলেন, “কোনো কারফিউ থাকবে না। সত্যি বলতে, আমার মনে হয় না বিষয়টি এত বড় করে দেখার প্রয়োজন আছে।”

এর মধ্যেই ডার্বির নাইট ক্লাবের ঘটনায় কার্সের হাতে হ্যান্ডকাফ পরা ভিডিও সামনে আসায় ইংলিশ ক্রিকেটে আবারও মাঠের বাইরের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কার্সের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া কার্স এর আগেও বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। ২০২৪ সালে বেটিংয়ের কারণে তাকে তিন মাসের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বিভিন্ন ম্যাচে তিনি মোট ৩০৩টি বাজি ধরেছিলেন। তবে ওই ম্যাচগুলোর কোনোটিতেই তিনি নিজে জড়িত ছিলেন না।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে